মোঃ মাইদুল ইসলাম ।। ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে আল-হেরা ইসলামী একাডেমির বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষাবিদ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও হামদ পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূরুঙ্গামারী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান সরকার স্বপন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইসলামী শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে আল-হেরা ইসলামী একাডেমি যেভাবে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনে ভূমিকা রাখছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।” তিনি শিক্ষার্থীদের কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সোনাহাট ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বাবুল আক্তার। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ভূরুঙ্গামারী ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক লতিফুর রহমান দুলাল, বাউশমারি ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ সাবেদ আলী।
অভিভাবক প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাংবাদিক মেছবাহুল আলম এবং বলদিয়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শফিকুল ইসলাম তারা সহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, ইসলামী শিক্ষা জাতির নৈতিক ভিত্তি মজবুত করে এবং সমাজে সৎ, যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অভিভাবক সমাবেশে আল-হেরা ইসলামী একাডেমির পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বলেন, “আজকের এই অভিভাবক সমাবেশে অভিভাবকদের দেওয়া সুচিন্তিত মতামত, পরামর্শ ও অভিযোগ ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও জানান, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে উঠে আসা মতামত ও দিকনির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান আরও উন্নত করা হবে।
আলোচনা সভা শেষে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং মেধাবী ও কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

