মোঃ মাইদুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থানাধীন দক্ষিণ ছাট গোপালপুর গ্রামে এলাকাবাসীর হাতে আটক হওয়া গাজা ও একটি মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকার সময় দক্ষিণ ছাট গোপালপুর গ্রামে উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সেক্রেটারি শাহিন শিকদারের বাড়ির সামনে স্থানীয় কয়েকজন যুবক—মিন্টু (পিতা: নুর ইসলাম), বাহাদুর (পিতা: নেয়ামত), ফরহাদ (পিতা: অজ্ঞাত) ও মোর্শেদ (পিতা: অজ্ঞাত), সকলেই কালাচান মোড় এলাকার বাসিন্দা—এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি একটি ব্যাগ ও একটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে ব্যাগটি তল্লাশি করে আনুমানিক ২ কেজি গাজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাজা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ সাইদুল ইসলাম লাভলুর জিম্মায় প্রদান করা হয় এবং মোটরসাইকেলটি মোঃ রাফেল শিকদার (পিতা: মৃত আবু সাঈদ), যিনি শাহিন শিকদারের ছোট ভাই, তার জিম্মায় রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সেক্রেটারি শাহিন শিকদারের মদদে অর্থের বিনিময়ে মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দেওয়া হয় এবং উদ্ধারকৃত গাজার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। মাদক ব্যবসায়ীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ না করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ জানায়, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরপরই ভূরুঙ্গামারী সার্কেল এএসপি মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু করে। একই দিন রাত আনুমানিক ৯:০০ ঘটিকার সময় একটি কাটা/ছেঁড়া প্যাকেটে ১ কেজি গাজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত প্যাকেট দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বে উদ্ধার হওয়া গাজার একটি অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সার্কেল এএসপি মুনতাসির মামুন মুন জানায়, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ সাইদুল ইসলাম লাভলু, মোস্তফা এবং মিন্টুকে আটক করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গাজার প্রকৃত মালিকের পরিচয় উদঘাটন করে এ বিষয়ে নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে শাহিন শিকদার এর ব্যবহৃত মোবাইলে কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

