Site icon হামার কুড়িগ্রাম

ভুরুঙ্গামারীতে বন্যা ও পানিবন্দী মানুষের সহায়তায় সভা, বাজেট প্রস্তাব উপজেলা প্রশাসনের

মোঃ মাইদুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দ্বীপ জন মিত্র।

সভায় ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ১০ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সবুজ কুমার গুপ্ত, পুলিশ প্রশাসনের এসআই মিতু, কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক মাহফুজুল ইসলাম কিরণ উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।

সভায় জানানো হয়, গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দুধকুমার, ফুলকুমারসহ উপজেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করেছে। বহু বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে, এছাড়া পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পানিবন্দি হয়েছে শহড়ের মানুষ। রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গবাদি পশুর নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা ও নদীভাঙনে মানুষের পাশাপাশি কৃষি জমি ও ফসলও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পিআইও এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নের ১৩টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শিলখুড়ীর ২টি, তিলাইয়ের ৩টি, পাইকেরছড়ার ১টি, আন্ধারিঝাড়ের ১টি, বলদিয়ার ১টি, চর ভুরুঙ্গামারীর ৩টি ও বঙ্গ সোনাহাটের ২টি গ্রাম অন্তর্ভুক্ত। মোট ৭৪০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা মধ্যে নদীভাঙনে ৪টি পরিবার এবং পানিবন্দী ৭৩৬টি পরিবার রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপজেলা প্রশাসনে মোট ৩১৫টি প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে। প্রতিটি ১,৮০০-১,৯০০ টাকার বাজেটের প্যাকেটে রয়েছে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি করে চিনি, ডাল, তেল, লবণ, ১০০ গ্রাম করে হলুদ, মরিচ ও ধনিয়া গুঁড়া। শিশু খাদ্যের জন্য ৩০,০০০ টাকা বাজেটের প্রতিটি ২৫০ টাকা যার মধ্যে রয়েছে অলিম্পিক বিস্কুট ৫০ টাকা, সুজি ২০০ গ্রাম, চিনি ৫০০ গ্রাম, মশুর ডাল ৫০০ গ্রাম, ৩০-৪০ টাকার নুডুলস ইত্যাদি। গবাদি পশুর জন্য ৩০,০০০ টাকার বাজেটে ৩০ বস্তা পশুখাদ্য সংরক্ষিত আছে।

উপজেলায় মোট ৫৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে ৯,৪০০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর মধ্যে পাথরডুবিতে ৩টি, শিলখুড়ীতে ৩টি, তিলাইয়ে ৩টি, পাইকের ছড়ায় ৬টি, ভুরুঙ্গামারীতে ৭টি, আন্ধারিঝাড়ে ৮টি, বলদিয়ায় ৬টি, চর ভুরুঙ্গামারীতে ৬টি এবং বঙ্গ সোনাহাটে ৯টি। এছাড়া উদ্ধার কাজের জন্য ২৪টি নৌযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ বিতরণ, পর্যাপ্ত পশুখাদ্য সরবরাহ, রাস্তা-ঘাট ও বাঁধ মেরামত এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দ্বীপ জন মিত্র স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

Exit mobile version