Site icon হামার কুড়িগ্রাম

ভুরুঙ্গামারীতে আদালতের রায় ও মাউশি আদেশ উপেক্ষা? পুনর্বহাল শিক্ষকদের যোগদানে বাধা নিয়ে তীব্র অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় আদালতে বেকসুর খালাস ও সরকারি পুনর্বহাল আদেশ পাওয়ার পরও কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর কর্মস্থলে যোগদানে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ৬ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চূড়ান্ত রায় দেন। রায়ে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— মোঃ লুৎফর রহমান, মোঃ আমিনুর রহমান, মোঃ হামিদুর রহমান, মোঃ সোহেল আল মামুন, মোঃ আবু হানিফ ও মোঃ সুজন।

এরপর ২০২৬ সালের ৪ মার্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে পুনর্বহাল করে এবং বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদানসহ স্ব-স্ব পদে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা ইতোমধ্যে মার্চ মাসের পূর্ণাঙ্গ বেতন ইএফটি’র মাধ্যমে পেয়েছেন—যা তাদের চাকরিতে বহাল থাকার বিষয়টি আইনগতভাবে নিশ্চিত করে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ একটি প্রভাবশালী মহল পুনর্বহালপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানে বাধা সৃষ্টি করছে। গত সোমবার (৬ এপ্রিল) শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশ ‘সাজানো রাজনৈতিক কর্মসূচি’ বলে দাবি করেছেন।

তাদের মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে এমন কর্মসূচি আয়োজন আদালতের রায়ের প্রতি অসম্মান এবং একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। মানববন্ধনে বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের রায় ও সরকারি আদেশ কার্যকর করতে বাধা দেওয়া ‘আদালত অবমাননা’ (Contempt of Court) এবং সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা আইনগত ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

এদিকে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ব্যক্তিস্বার্থের কারণে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আদালতের রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত শিক্ষকদের সামাজিকভাবে হেয় করার প্রবণতাও নিন্দনীয়।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে এ ধরনের ‘রাজনৈতিক নাটক’ বন্ধ করে আদালতের রায় ও মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকদের সসম্মানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

Exit mobile version