Site icon হামার কুড়িগ্রাম

ভারতে সৌজন্যমূলক কারণে ১২০০ টন ও মধ্যপ্রাচ্যে ১১ হাজার টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন: ফরিদা আখতার

বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, কোনো চাপের কারণে নয়; ধর্মীয় সৌজন্যবোধ ও অনুরোধের ভিত্তিতেই ভারতে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবির প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ১১ হাজার টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে জেলা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ, নারী কৃষক, স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় অংশ নেন তিনি।

ফরিদা আখতার বলেন, “গত বছর ভারতে তিন হাজার টন ইলিশ রপ্তানি করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর রপ্তানির জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মাত্র ১ হাজার ২০০ টন। এটি গতবারের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। তাই কোনো চাপের কারণে নয়, ধর্মীয় সম্প্রীতির জায়গা থেকে এই রপ্তানি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”

ইলিশের কম উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতি

বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, চলতি বছরে জাটকা নিধনের কারণে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। গত জুলাই মাসে ৩৭ শতাংশ এবং আগস্ট মাসে ৪৭ শতাংশ কম ইলিশ ধরা পড়েছে, যা দামের ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ। তিনি আরও জানান, দেশের কিছু এলাকায় ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ফিশারিজ ডেভলপমেন্ট করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে ইলিশ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই কষ্ট পাচ্ছি যে বাংলাদেশের মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে পর্যাপ্ত ইলিশ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারিনি। তবে উত্তরবঙ্গসহ কিছু এলাকায় সীমিত আকারে সরকারি উদ্যোগে মাছ বিক্রি করা হবে।”

ইলিশ সংরক্ষণে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ফরিদা আখতার জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে গত মৌসুমে সফলতা মিলেছিল এবং প্রজননের হার ছিল প্রায় ৫২ শতাংশ। তবে এবছর সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া, নদীতে ডুবোচর ও পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া এবং জাটকা নিধনের কারণে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা যায়নি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ বছর যে জাটকা রক্ষা করা হয়েছে তার সুফল আগামী মৌসুমে পাওয়া যাবে।

ভারতে ইলিশ রপ্তানির কারণ

ভারতে ইলিশ রপ্তানি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফরিদা আখতার বলেন, “প্রায় ছয় বছর ধরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ পাঠানো হচ্ছে। এটি চাপ নয়; বরং সৌজন্যবোধ ও ধর্মীয় সম্প্রীতির কারণে দেওয়া হয়েছে। অনুরোধ আসলে না বলা আমাদের জন্যও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সম্প্রীতির জায়গা থেকেই ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”

মৎস্য খাতে প্রণোদনার অভাব ও প্রাণিসম্পদে উদ্যোগ

মৎস্য খাতে প্রণোদনা না থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কৃষির মতো এ খাতে তেমন কোনো প্রণোদনা নেই। বিষয়টি ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার জনকল্যাণে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

এ সময় তিনি গবাদিপশুর রোগ নিয়ন্ত্রণের দিকেও গুরুত্ব আরোপ করেন। বিশেষ করে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) নির্মূলে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জসহ চার জেলা পুরোপুরি ভ্যাকসিনের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান।

সভায় উপস্থিত অতিথিরা

মতবিনিময় সভায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ, পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান, সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোক্তাদির খান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন।

Exit mobile version