Site icon হামার কুড়িগ্রাম

ভাঙা টিনের ঘরে শীতের সঙ্গে লড়ছেন বিধবা রাবেয়া, নেই খোঁজ নেওয়ার কেউ

জাহিদ হাসান | হামার কুড়িগ্রাম

ভাঙা টিনের ঘরে শীত ও ঠান্ডায় থাকা যায় না। স্বামী নেই, খোঁজ নেওয়ারও কেউ নেই—এভাবেই জীবনের কষ্টের কথা জানালেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের সদ্দারপাড়া এলাকার বিধবা নারী রাবেয়া বেগম (৫৬)।

গাছের নিচে অন্যের জায়গায় পলিথিন, কাঠ ও পাটখড়ির বেড়া দিয়ে তৈরি ভাঙা টিনের ঘরে বসবাস করছেন তিনি। মানুষের বাড়িতে কাজ করলে খাবার জোটে, কাজ না পেলে দিন কাটে অনাহারে-অর্ধাহারে। সরকারিভাবে একটি নিরাপদ ঘর ও জায়গা পেলে শেষ বয়সে একটু শান্তিতে থাকতে পারতেন—এমনই আকুতি এই সংগ্রামী নারীর।

রাবেয়া বেগম বলেন, “স্বামী চার-পাঁচ বছর আগে মারা গেছে। তখন থেকে মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোরকমে চলি। বিধবা ভাতার কার্ড আছে, কিন্তু ওই টাকায় সংসার চলে না। এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, সে এখন খুব একটা খোঁজ নেয় না।”

রাবেয়া বেগমের জেঠাতো ভাই আবু বক্কর মিয়া বলেন, “বোনজামাই মারা যাওয়ার পর থেকেই খুব কষ্টে আছে। আমরাও গরিব মানুষ, তেমন সাহায্য করতে পারি না।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, “রাবেয়া আমার জায়গায় এই ঘর করে আছে। অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। মেয়ের সংসারে ঝামেলা থাকায় হয়তো মায়ের খোঁজ নিতে পারে না। সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে তার শেষ বয়সটা ভালো কাটত।”

এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Exit mobile version