কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | হামার কুড়িগ্রাম
উত্তরবঙ্গের ভাওয়াইয়া সঙ্গীতের কিংবদন্তি শিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কছিম উদ্দীনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯২ সালের ২২ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ভাওয়াইয়া সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ‘ভাওয়াইয়া গানের যুবরাজ’ হিসেবে পরিচিত।
কছিম উদ্দীন ছিলেন উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতিভা। ভাওয়াইয়া গানের পাশাপাশি তিনি পালাগান, জারি ও দেশাত্মবোধক গান রচনা ও পরিবেশন করেছেন। তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনেও তিনি বিশেষ গ্রেডের শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কছিম উদ্দীন বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে গিয়ে গান পরিবেশন করে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁর রচিত ‘ওকি বাপরে বাপ, মুক্তিফৌজ কি যুদ্ধ করে বাপরে’সহ বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান সে সময় ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়।
ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাসউদ্দীনের পর কছিম উদ্দীন ভাওয়াইয়া গানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান বলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন আলোচনায় উল্লেখ করা হয়। তাঁর কণ্ঠে উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবন, প্রেম-বিরহ, দুঃখ-কষ্ট, সামাজিক বাস্তবতা ও দেশপ্রেমের নানা দিক ফুটে উঠেছে।
১৯৭৭ সালে প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক তাঁর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। পরে বিবিসিতে কছিম উদ্দীনের সাক্ষাৎকার ও গান প্রচারিত হলে তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়। ১৯৮৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি সংগীতচর্চা অব্যাহত রাখেন।
১৯৯২ সালের ২২ আগস্ট ভোরে নিজ বাড়িতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান এই গুণী শিল্পী। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে স্মরণ অনুষ্ঠান ও ভাওয়াইয়া পরিবেশনের আয়োজন হয়ে থাকে।
উত্তরবঙ্গের মাটি ও মানুষের এই প্রিয় শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকীতে হামার কুড়িগ্রাম পরিবারের পক্ষ থেকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
