Site icon হামার কুড়িগ্রাম

ভাওইয়া গানের জেলা কুড়িগ্রাম, তবু নিজের শিল্পীদের জায়গা হলো না ইত্যাদিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম:

কুড়িগ্রাম—বাংলাদেশের এক প্রান্তিক জেলা। সহজ-সরল, মাটির গন্ধে ভরা মানুষের এই অঞ্চলে জীবনের সরলতা যেমন গভীর, তেমনি আবেগও প্রবল। সেই মানুষের প্রাণের শহরে ১১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হলো জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র শুটিং। জেলার মানুষের প্রত্যাশা ছিল, এটি হবে আনন্দ ও গৌরবের উৎসব। কিন্তু আয়োজনের ভেতর থেকেই জন্ম নিলো বিতর্ক—বঞ্চনার অনুভূতি ছুঁয়ে গেলো কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষকে।

অনুষ্ঠানে দর্শক প্রবেশের সময় দর্শকদের ভাগ করা হয় ‘ভিআইপি’ ও ‘সাধারণ’ শ্রেণিতে। এতে অনেকেই নিজেদের অপ্রয়োজনীয় বা অবমূল্যায়িত মনে করেন। অনেকের মতে, এমন বিভাজন কুড়িগ্রামের মানুষের সরল অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।

কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী শফিকুর রহমান বলেন,

“আমি এই জেলার মানুষ, এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক হিসেবে গর্ব করি। কিন্তু অনুষ্ঠানটির কোনো সৌজন্য আমন্ত্রণ পাইনি। প্রশ্ন হলো, এই ভিআইপি কারা? তারা কি সত্যিই কুড়িগ্রামের প্রতিনিধি, নাকি কেবল বিশেষ পরিচয়ের অধিকারী?”

তিনি আরও বলেন,

 “বড় আয়োজন হলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন—এটি সত্যি। কিন্তু মানুষকে শ্রেণি অনুযায়ী ভাগ করা, তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা—এটি অমানবিক ও অবিবেচনাপ্রসূত।”

শুধু তাই নয়, কুড়িগ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক ভাওইয়া সংগীত নিয়েও অসন্তোষ দেখা দেয়। স্থানীয় শিল্পীদের বাদ দিয়ে অন্য জেলার শিল্পীদের অংশগ্রহণ করানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ।

প্রফেসর কাজী শফিকুর রহমান বলেন,

 “ভাওইয়া গানের জন্য কুড়িগ্রাম বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এখানকার বহু শিল্পী জাতীয়ভাবে পরিচিত, যাদের কণ্ঠে আছে মাটির গন্ধ, নদীর সুর, মানুষের গল্প। তাদের বাদ দিয়ে বাইরের শিল্পীদের দিয়ে অনুষ্ঠান সাজানো কুড়িগ্রামের সংস্কৃতির প্রতি অবহেলা।”

তিনি আক্ষেপ করে বলেন,

 “যারা অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছেন তারা কাজ শেষ করে চলে গেছেন, কিন্তু কুড়িগ্রামের মানুষের মনে এই বঞ্চনার অনুভূতি থেকে যাবে দীর্ঘদিন।”

শেষে তিনি বলেন,

 “কুড়িগ্রাম কোনো ভিআইপি শহর নয়—কুড়িগ্রাম নিজেই একটি গৌরব। এই জেলার মানুষই এর আসল পরিচয়, আর তাদের সংস্কৃতিই কুড়িগ্রামের আত্মা। তাদের বাদ দিয়ে কুড়িগ্রামের গল্প কখনোই সম্পূর্ণ হতে পারে না।”

প্রসঙ্গত, হানিফ সংকেতের উপস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদি দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রান্তিক এলাকায় আয়োজন করা হয়। তবে কুড়িগ্রামে এবারের আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি তীব্র হতাশাও তৈরি হয়েছে।

Exit mobile version