বিদ্যুৎহীন ইউনিয়ন পরিষদে ৩ বছর ধরে তালা, সেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষ


Shahariar Srejon প্রকাশের সময় : মে ৯, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ন /
বিদ্যুৎহীন ইউনিয়ন পরিষদে ৩ বছর ধরে তালা, সেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষ

ফজলুল করিম ফারাজী

সরকারি অর্থে প্রায় ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন—উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে সেই ভবনে ঝুলছে তালা। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম। গত তিন বছর ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ।

ফলে জন্মনিবন্ধন, প্রত্যয়নপত্র, ভিজিএফ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম এখন ভবনে নয়; চেয়ারম্যানের বাড়ি কিংবা হাটের চায়ের দোকানে বসেই পরিচালিত হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দূর-দূরান্ত থেকে এসে পরিষদে তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পরিষদ ভবনের চারপাশে আগাছা জন্মেছে। ভেতরে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। নির্ধারিত কক্ষে বসতে পারেন না ইউপি সদস্যরাও। মোল্লারহাট বাজারের একটি চায়ের দোকানেই অনেক সময় জনসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তথ্যসেবা কেন্দ্র চালানো হচ্ছে বাজারের একটি বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের দোকানে। এমনকি মাসিক সভাও হচ্ছে চায়ের দোকানে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, পরিষদের মাঠ ভরাট ও বিদ্যুৎ বিলের জন্য একাধিকবার সরকারি টাকা উত্তোলন করা হলেও তা যথাযথভাবে ব্যয় হয়নি। দীর্ঘদিন বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা এখনো পুনঃসংযোগ করা হয়নি।

ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হানিফ বলেন,
“বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আমরা টাকা তুলে চেয়ারম্যানকে দিয়েছি। কিন্তু তিন বছরেও সংযোগ চালু হয়নি। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন,
“এত বড় ভবন করেও কোনো লাভ হয়নি। মানুষ সেবা পাচ্ছে না। পরিষদে গেলে তালা ঝুলতে দেখা যায়।”

রসুলপুর এলাকার আব্দুল মালেক বলেন,
“জন্মনিবন্ধনসহ জরুরি কাজে মানুষ দূর থেকে আসে। কিন্তু পরিষদ বন্ধ দেখে ফিরে যেতে হয়। চেয়ারম্যানের বাড়িই এখন ইউনিয়ন পরিষদে পরিণত হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাবলু মিয়া বলেন,
“এলাকার পরিবেশ ভালো না হওয়ায় নিয়মিত পরিষদে বসা হয় না। হাট-বাজার ও বাড়িতে বসেই কাজ করি। বিশেষ প্রয়োজন হলে পরিষদ খোলা হয়।”

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে তিনি জানান,
“বকেয়া বিলের কারণে সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করে এক মাসের মধ্যে সংযোগ চালু করা হবে।”

উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন,
“আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”