নিউজ ডেস্ক
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
মাদ্রাসা সূত্র জানায়, স্থানীয় খন্দকার আরিফ নামে এক ব্যক্তি সুপারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে নানা অপবাদ ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন।
তবে সুপারের দাবি, বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য আরিফের একতরফা প্রচারণা।
প্রায় ১৭ বছর আগে অফিস সহকারী পদে পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় যোগ দিয়েছিলেন আরিফ। তবে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির কারণে তৎকালীন সুপার আ খ ম মোখতার আলী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করেন। পরবর্তীতে আরিফ কোর্টে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন পর মামলার রায় পেলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আপিল করে, যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান ছিলো।
বর্তমান সুপার জানান, “সাবেক সুপারের অবসরের পর মামলার দায়ভার আমার ওপর পড়ে। আরিফ আমাকে বারবার মামলা আপোষ করে চাকরি ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ জানায়। আমি বলেছি, ম্যানেজিং কমিটি রাজি থাকলে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু মাদ্রাসায় অনুপস্থিতির জন্য বহিষ্কৃত আরিফকে কমিটির সদস্যরা চাকরিতে পুনঃনিয়োগ দিতে রাজি হয়নি।”
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরে ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্ত এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিযুক্ত হলে আরিফ আবারও আপোষের অনুরোধ জানান। ইউএনও মহোদয়ের মধ্যস্থতায় সুপার সদয় হয়ে তার সঙ্গে হাইকোর্টে গিয়ে মামলা খারিজে সহায়তা করেন। উল্লেখ্য, নিজ স্বার্থে আরিফ সুপারের ঢাকা যাতায়াত খরচ বহন করেন।
সুপারের দাবি, “খন্দকার আরিফ আমার নামে মামলা খারিজের জন্য ১ লাখ টাকা ও চাকরিতে বহাল রাখতে ৬ লক্ষ্য টাকা দাবির অভিযোগ করেছে। এটি একেবারেই মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এরপর সুপার তাকে পুনরায় মাদ্রাসায় যোগদানের জন্য চিঠি পাঠান। তবে বর্তমানে স্থানীয় একটি কলেজে চাকরিরত থাকায় সুপার তাকে সেখান থেকে পদত্যাগ করে মাদ্রাসায় যোগ দিতে বলেন। কেননা, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী একইসঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা যায় না। কিন্তু আরিফ কলেজ থেকে পদত্যাগ করতে রাজি নয় ।
এ বিষয়ে সুপার বলেন,
“যেহেতু সে কলেজের চাকরি ছাড়তে রাজি নয়, তাই নিয়ম অনুযায়ী তাকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণে সে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে সুপারিশের চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমি নীতি ও আইনের মধ্যে থেকে বিষয়টি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে অবহিত করেছি।”
এ অবস্থায় বহিষ্কৃত আরিফ নীতি বহির্ভূত ভাবে মাদ্রাসায় নিয়োগ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উন্মাদের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুপারের বিরুদ্ধে মানহানি মূলক নানা প্রকার ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার রাজারহাট থানায় একটি জিডি করেছেন এবং খুব দ্রুত খন্দকার আরিফের নামে মানহানির মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

