মোঃ মাইদুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী
বর্তমানে দেশে প্রেম/পরকীয়া সম্পর্ক আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয় ও পারিবারিক অস্থিরতা এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে সম্মান ও জীবন—দুটিই এখন হুমকির মুখে। সম্প্রতি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর এক ব্যক্তি পরিবারের সুখের জন্য ৪–৫ বছর আগে বিদেশে যান। এই সুযোগে তার আপন ভায়রা স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এতে স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন (৪–৫ মাস)। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামী মানবিকভাবে বলেন—“শিশুটি জন্মের পর যার সন্তান তাকে দিয়ে দাও, আমি স্ত্রীকে ক্ষমা করে সংসার করব।”
কিন্তু নিহত মহিলার পরিবার তাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত করায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কিছুদিন পর মহিলার মৃত্যু হয়। তাদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মহিলা কিছুটা মানসিকভাবে অস্বাভাবিক ছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক; তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং পূর্বেও পরকীয়া করে বিয়ে করেছে।
স্থানীয়রা দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল বলছে—বিদেশে বা অন্যত্র কর্মরত স্বামীদের সুযোগে স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক অথবা উভয় ক্ষেত্রেই অসংখ্য পরিবার ধ্বংস হচ্ছে। তাদের ভাষ্য—“সামান্য ১০ মিনিটের আনন্দের জন্য একটি পরিবার ধ্বংস করা মানবীয় নয়।”
অভিযোগ রয়েছে, অনেক পুরুষ নিজ ঘরে স্ত্রী রেখে কিংবা বিয়ে না করেও স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের সঙ্গে অথবা অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়াচ্ছে, আবার অনেক মেয়ে বিয়ে না করে বন্ধু বা অন্য কারো সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করে জীবন পার করছে, যা সমাজে অস্থিরতা ও অপরাধ বাড়িয়ে তুলছে।
ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন—“শয়তান মানুষকে প্রলুব্ধ করে খারাপ কাজে টেনে নেয়। আইনকে ফাঁকি দিলেও আল্লাহর চোখকে কেউ ফাঁকি দিতে পারবে না।”
ইসলামের দৃষ্টিতে পরকীয়া (ব্যভিচার/জিনা): পরকীয়া ইসলামে কঠোরভাবে হারাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন— “যখন একজন ব্যভিচার করে, তখন সে ঈমানদার অবস্থায় থাকে না।” (সহিহ বুখারি: ২৪৭৫, সহিহ মুসলিম: ৫৭)
সচেতন মহল মনে করছে—দ্রুত অপরাধীদের (ছেলে/মেয়ে) আইনের আওতায় আনা না হলে সামাজিক মূল্যবোধ ভেঙে পড়বে এবং পরিবার ধ্বংসের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এই অবৈধ সম্পর্ক রোধে মোবাইলের কল হিস্টোরি ও অন্যান্য তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা মাঝে মধ্যে যাচাই করা প্রয়োজন।

