হামার কুড়িগ্রাম

পরিচয়পত্র দেওয়ার নামে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

সিরাজুল ইসলাম | উলিপুর

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) দেওয়ার কথা বলে টাকা উত্তোলনের পরও দীর্ঘদিন ধরে পরিচয়পত্র না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ২০২৬ সালের শুরুতে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ১৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার প্রায় সাত মাস পার হলেও অনেক শিক্ষার্থী এখনও পরিচয়পত্র পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬০০-এর বেশি শিক্ষার্থী এবং ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমান প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

একজন অভিভাবক বলেন, “২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের দিকে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সন্তানদের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি। পরিচয়পত্র কেন দেওয়া হচ্ছে না, সেটিও পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি।”

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিনোদনকেন্দ্র জিয়াপুকুরে স্কুলব্যাগ কাঁধে বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে অবস্থান করতে দেখা যায়। কারও কারও বিরুদ্ধে সেখানে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র থাকলে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে কোনো শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠানের বাইরে পাওয়া গেলে তার পরিচয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তাই দ্রুত শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার-এর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে এখন আমি কিছু বলতে পারব না।”

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬০০-এর বেশি এবং জনপ্রতি ১৫০ টাকা করে নেওয়া হয়ে থাকলে এ খাতে কমপক্ষে ৯০ হাজার টাকা উত্তোলনের হিসাব দাঁড়ায়। তবে প্রকৃত কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, তা বিদ্যালয়ের হিসাবপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উত্তোলন করা টাকার হিসাব, পরিচয়পত্র তৈরির প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘদিনেও পরিচয়পত্র না দেওয়ার কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

তবে অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে বিদ্যালয়ের হিসাবপত্র, সংশ্লিষ্ট কমিটির বক্তব্য এবং প্রশাসনিক তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Exit mobile version