Site icon হামার কুড়িগ্রাম

নির্বাচন সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-২ এ নাশকতা: ব্যানারে থাকা বিএনপি ও এনসিপি নেতার ছবি কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

উপজেলা প্রতিনিধি, (রাজারহাট, কুড়িগ্রাম সদর) কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম-২ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এরই মধ্যে রাতের অন্ধকারে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থীদের প্রচারণায় সৌজন্যে ব্যবহৃত ব্যানার–বিলবোর্ড কেটে ফেলার ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ এবং এনসিপির প্রার্থী ড. আতিক মুজাহিদের প্রচারণায় সৌজন্যসূচকভাবে যাদের ছবি দেওয়া হয়েছিল—সেসব ব্যানারের ছবিতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।

ধানের শীষের প্রচারণায় ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের কাশেম বাজারে ব্যানার দিয়ে গেট নির্মাণ করেন ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম (রাকিব বিল্লাহ)। গভীর রাতে তার ছবিটি কেটে ফেলা হয়। একইভাবে কুড়িগ্রাম কলেজ মোড়ে এনসিপি প্রার্থী ড. আতিক মুজাহিদের প্রচারণায় সৌজন্যে দেওয়া জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার ছবিও ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম (রাকিব বিল্লাহ) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“৫ ডিসেম্বর রাতে ঘটনাটি ঘটে। সকালে বাজারে গিয়ে সবাই আমাকে জানায়, পরে নিজেই গিয়ে দেখলাম আমার ছবিটি ধারালো কিছু দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে। এটি নিছক নাশকতা নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। আমরা কখনোই এই ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। যারা করেছে, তারা দেশবিরোধী অপচক্রের অংশ। এতে আমি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, দলের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়েছে। আমি উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”

এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া বলেন,
“এ ধরনের কাজ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। প্রত্যেকেরই প্রচারণা চালানোর অধিকার রয়েছে। ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা একটি গোঁড়ামিপূর্ণ রাজনৈতিক আচরণ, যা থেকে বের হয়ে আসা উচিত।”

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের মাঠকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে।

ঘটনার পর বিএনপি ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এমন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

Exit mobile version