নিজের বসতভিটার ভাঙন ঠেকাতে ৮০ বছরের বৃদ্ধের একার লড়াই


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ন /
নিজের বসতভিটার ভাঙন ঠেকাতে ৮০ বছরের বৃদ্ধের একার লড়াই

মোঃ মশিউর রহমান বিপুল , হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে নিজের শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষায় একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ৮০ বছর বয়সী নুরুজ্জামান মিয়া। বারবার নদীভাঙনে পৈত্রিক সম্পত্তি হারিয়ে বর্তমানে সামান্য জমিতে বসবাস করলেও, সেইটুকুও হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে তার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তার ভাঙনে আগেই সর্বস্ব হারান নুরুজ্জামান। পরে মাত্র সাড়ে ৭ শতক জমিতে নতুন করে বসতভিটা গড়ে তুললেও গত বছরের ভাঙনে তার প্রায় ৫ শতক জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে অবশিষ্ট অল্প জমিতে স্ত্রীকে নিয়ে কোনোরকমে বসবাস করছেন তিনি।

নিজ বাড়ির সামনে ছোট একটি চা-বিস্কুটের দোকানই তার একমাত্র আয়ের উৎস। কিন্তু আসন্ন বর্ষা মৌসুম ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের আশঙ্কায় আবারও ঝুঁকিতে পড়েছে তার বসতভিটা। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী প্লাস্টিকের বস্তায় বালু ভরে নদীর তীরে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন তিনি। প্রতিবেশীদের সহায়তায় ইতোমধ্যে শতাধিক বালুভর্তি বস্তা বসানো হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াই পিয়ার এলাকায় পিয়ারি দাখিল মাদ্রাসার পাশের নদীতীরে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভার উপেক্ষা করে নিজ হাতে বালুর বস্তা সাজিয়ে চলেছেন এই বৃদ্ধ।

নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, “তিস্তার ভাঙনে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। এ বয়সে অনেক কষ্ট হয়, তবু শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর চেষ্টা করছি। সরকারি সহায়তা পেলে হয়তো বসতভিটা রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও জানান, তার ২ মেয়ে ও ৪ ছেলে থাকলেও বসতভিটা না থাকায় তারা বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি ও তার স্ত্রী তিস্তার পাড়েই জীবনের শেষ আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন বর্ষায় তিস্তার ভাঙনে নুরুজ্জামানের শেষ আশ্রয়টুকুও বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।