রাহিমুল ইসলাম সজীব
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘীরপার গ্রামে জরাজীর্ণ একটি ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ৮০ বছর বয়সী অসহায় বৃদ্ধ মানুল্লা। স্ত্রী-সন্তানহীন এই বৃদ্ধের জীবনে নেই স্থায়ী আয়ের কোনো উৎস। দু’বেলা খাবারের নিশ্চয়তাও নেই। বয়স ও অসুস্থতার ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে অন্যের সহায়তায় কোনোভাবে চলছে তার দিন।
মানুল্লা মৃত মান্দু ফকিরের ছেলে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫ বছর ধরে অন্যের জায়গায় একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন তিনি। ঘরটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, বৃষ্টি হলে ভেতরে পানি পড়ে। শীতের সময়ও দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
একটি ঘরেই তার রান্না, খাওয়া ও ঘুম—সবকিছু। অসহায় এই বৃদ্ধের জীবন যেন পরিণত হয়েছে এক অন্ধকার বন্দিদশায়। বয়সের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও তার জন্য কঠিন। অসুস্থ হলে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাও সম্ভব হয় না।
স্থানীয়রা জানান, মানুল্লার কোনো নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা নেই। মানুষের দেওয়া সামান্য সাহায্য-সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই চলে তার জীবন। অনেক সময় খাবার জোটে না। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো—বয়স্ক ভাতা তো দূরের কথা, তিনি সরকারি কোনো ভাতা বা অনুদানও পান না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্দশায় থাকলেও অসহায় এই বৃদ্ধের জীবনযাপনের স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা হয়নি। একটি নিরাপদ ঘর, নিয়মিত খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে দিন কাটছে তার।
মানুল্লার করুণ অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যে সহানুভূতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা তার জন্য একটি নিরাপদ ঘর, নিয়মিত খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত নজর দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের অসহায় মানুল্লার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।






