নাগেশ্বরী প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অরণ্য’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী ‘সবুজ উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উপজেলার কাচারী পয়রাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সকাল ১০টায় ফিতা কেটে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ফলজ ও ভেষজ গাছের চারা বিতরণ, কুইজ প্রতিযোগিতা, পরিবেশ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
এ সময় পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং গাছের যথাযথ পরিচর্যার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন সংগঠনের কর্মীরা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ কাটার পরিবর্তে বেশি করে গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগেশ্বরী উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শ্রী নিখিল চন্দ্র বর্মণ, মধ্য কুমোরপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মো. তারিকুল ইসলাম, কাচারী পয়রাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুল ইসলাম মন্ডল এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ফুল’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. আব্দুল কাদের।
এ ছাড়া ‘অরণ্য’ সংগঠনের উপদেষ্টা নুর আমিন, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুস ছোবহান জুয়েলসহ সংগঠনের সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।
কাচারী পয়রাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুল ইসলাম মন্ডল বলেন, একটি গাছ কেটে ফেললে তার পরিবর্তে অন্তত তিনটি গাছ লাগানো প্রয়োজন। এর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব।
গাছের চারা পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করে। তারা জানায়, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে গাছ ও পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের সচেতনতা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যার প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আবু জোবায়েদ সাগর এবং সভাপতিত্ব করেন কাচারী পয়রাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নুর মোহাম্মদ আল আমিন।
আয়োজকেরা জানান, পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই ‘সবুজ উৎসব’-এর মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
