Site icon হামার কুড়িগ্রাম

নাগেশ্বরীতে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও জালিয়াতির অভিযোগ, মানববন্ধন

মো. আবু সাঈদ ইসলাম ।। নাগেশ্বরী

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের টেপারকুটি দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার সুপার মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে জানা যায়, বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি একাধিক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেন। পরে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অবৈধভাবে নিয়োগ কার্যকর দেখানো হয় এবং জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগের প্রতিবাদে রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং এটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণা, ৪৬৬ ও ৪৬৮ ধারায় জাল দলিল প্রস্তুত এবং ৪৭১ ধারায় জাল দলিল ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের শামিল।

নিয়োগ বাণিজ্যের কাঠামোগত অনিয়ম

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদ্রাসার লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। অথচ ম্যানেজিং কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত প্রার্থী মো. আব্দুল আউয়ালকে পরবর্তীতে গোপনে রেজুলেশন থেকে বাদ দেওয়া হয়। তার অজান্তেই অন্য একজনকে নিয়োগ দেখিয়ে কাগজে-কলমে বেতন উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ শেখ। তিনি বলেন,
“কমিটির সিদ্ধান্ত জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে। রেজুলেশন ও স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ দেখানো হয়েছে, যা সরাসরি অপরাধ।”

নিম্নপদেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু লাইব্রেরিয়ান পদেই নয়, আয়া ও ঝাড়ুদার পদেও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সুপার মো. শফিকুল ইসলাম একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মাহাতাব মন্ডল বলেন,
“চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পরে জানতে পারি, অন্য একজনের নামে কাগজপত্র তৈরি করে বেতন তোলা হচ্ছে।”

আইনগত ব্যবস্থা দাবি

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সুপারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪২০ ধারা (প্রতারণা), ৪৬৬ ও ৪৬৮ ধারা (জাল দলিল প্রস্তুত ও ব্যবহার), ৪৭১ ধারা (জাল দলিলকে আসল হিসেবে ব্যবহার) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে মামলা হতে পারে।

বক্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চললেও প্রশাসনিক তদারকির অভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে এলাকায় চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত সুপার মো. শফিকুল ইসলামের অপসারণ, সব অবৈধ নিয়োগ বাতিল, আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত এবং শিক্ষা প্রশাসনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিলসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Exit mobile version