হামার কুড়িগ্রাম

নাগেশ্বরীতে বৃদ্ধার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার, পরিকল্পিত হত্যার আশঙ্কা

মোঃ মাইদুল ইসলাম

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় রহিমা বেওয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কুড়ার পাড় এলাকায় নিজ বাড়ির আঙিনা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ঘর থেকে ডেকে বের করে আনে। পরে বাইরে এনে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত রহিমা বেওয়ার চার মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় এক যুগ আগে তার স্বামী ফয়েজ উদ্দিন মারা যান। সন্তানরা বর্তমানে দিল্লিতে বসবাস করেন এবং সেখান থেকে মাসে তিন হাজার টাকা করে পাঠিয়ে তার সংসার চলত। একই ইউনিয়নে নাখারগঞ্জ বাজার এলাকায় তার এক মেয়ে থাকেন। প্রায় ৩২ শতক ভিটেমাটি ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ ছিল না এবং তিনি বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। এলাকায় তিনি একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

প্রতিবেশী অবিজন বেওয়া জানান, প্রতিদিন সকালে তাদের দেখা হতো এবং একসঙ্গে চা-নাশতা করতেন। এদিন সকালে রহিমাকে না দেখে তার বাড়িতে গিয়ে দরজার সামনে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেন। পরে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হয়।

নিহতের মেয়ে ফুলমালা বলেন, তার মায়ের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। তবে প্রায় এক বছর আগে বাগানের সুপারি চুরি করতে আসা কিছু লোকের সঙ্গে তার মায়ের কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

রামখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। নিহত বৃদ্ধা এলাকায় সবার কাছে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না। তবে এলাকায় কিছু মাদকসেবীর আড্ডা রয়েছে, বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”

নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান জানান, বৃদ্ধার মাথায় ভোতা অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করতে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করেছে। নিহতের হাতে চুলের মুঠি পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে এবং তিনি সম্ভবত পরিচিত কেউ হতে পারেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

Exit mobile version