নাগেশ্বরীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল: সাবেক এমপি সাইফুরকে জেলা বিএনপির শোকজ


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৭, ২০২৫, ৪:১৭ পূর্বাহ্ন /
নাগেশ্বরীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল: সাবেক এমপি সাইফুরকে জেলা বিএনপির শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও বিভক্তি চরমে পৌঁছেছে। একই দিবস উপলক্ষে পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালনের ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা বিএনপি সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা কমিটির সদস্য সাইফুর রহমান রানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, ৭ এপ্রিল ঘোষিত নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির জন্য নির্ধারিত একটি অফিস থাকা সত্ত্বেও সাইফুর রহমান রানা নিজ বাসভবনে পুরাতন অফিস সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রেখেছেন। দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের এই অভিযোগে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

তবে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কোনো জবাব দেননি সাইফুর রহমান রানা। তিনি অভিযোগগুলো ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে জানান, তার বাসায় কোনো অফিস বা সাইনবোর্ড নেই। অতীতে দলের দুর্দিনে যখন কোথাও অফিস ছিল না, তখন তার বাসভবনে সাময়িক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে মাত্র।

সাইফুর রহমান রানা বলেন, বর্তমানে উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি তাদের নিজস্ব অফিস থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে। আমি উপজেলা বিএনপিতে নেই, জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপিতে কাজ করছি। ৫ আগস্টের পৃথক অনুষ্ঠানেও আমাকে আমন্ত্রণ জানায়নি উপজেলা বিএনপি; বরং ছাত্রদল ও যুবদলের আমন্ত্রণে অতিথি হিসেবে আমি সেখানে গিয়েছি, এতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রশ্নই আসে না।

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা অভিযোগ করেন, সাইফুর রহমান রানা ব্যক্তি স্বার্থে দলকে বিভক্ত করছেন। তার বাসভবনকে উপজেলাভিত্তিক অফিস দেখিয়ে তিনি যুবদল, ছাত্রদল ও কৃষক দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আলাদা গ্রুপ তৈরি করেছেন, যা দলীয় ঐক্য নষ্ট করছে।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় ৫ আগস্ট নাগেশ্বরী উপজেলা মুক্তমঞ্চে দলীয় র‌্যালি ও আলোচনা সভা হয়, যার জন্য প্রশাসনের অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল। অথচ একই দিনে রানা নিজ বাসায় ভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন, যা স্পষ্টতই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাব না পাওয়ায় বিষয়টি জেলা কমিটিতে আলোচনা করে কেন্দ্রীয় বিএনপিকে জানানো হবে। কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।