
মিজানুর রহমান ।। নাগেশ্বরী
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় পরিবেশ ও আইন—দুটিকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলছে অবৈধ ইটভাটার রমরমা ব্যবসা। উপজেলায় বর্তমানে মোট ১৮টি ইটভাটার মধ্যে অন্তত ১৩টিই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব অবৈধ ইটভাটার মধ্যে অন্তত আটটি ফসলি জমির মাঝখানে, দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একেবারে সন্নিকটে এবং তিনটি জনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় স্থাপিত। অধিকাংশ ইটভাটা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কোনো আধুনিক বা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইট তৈরির জন্য নির্বিচারে কেটে নেওয়া হচ্ছে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি। জ্বালানি হিসেবে কয়লার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের কাঠ ব্যবহার করায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ। এর ফলে বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকিতে পড়ছে।
হাইকোর্টের নির্দেশনা, জেলা প্রশাসনের তলব এবং একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলেও এসব ইটভাটার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর রহস্যজনক নীরবতা ও দুর্বল তদারকির কারণেই প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন অবৈধ ইটভাটাগুলো উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা ও সক্ষমতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সম্প্রতি বায়ুদূষণ রোধে পুরনো ও পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটা নিষিদ্ধ এবং আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে নতুন ইটভাটার লাইসেন্স বা অনুমোদন বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যমান আইন হলো ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৯ (সংশোধিত)।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান রিসাদের কাছে লিখিত প্রশ্ন পাঠানোসহ একাধিকবার ফোন ও সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন জাহান লুনা জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)–কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নাগেশ্বরীতেও অভিযান পরিচালিত হবে। তবে অভিযানের নির্দিষ্ট সময়সূচি জানতে তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (জেনারেল)–এর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
এদিকে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করীম দাবি করেন, ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে ৭টি অবৈধ ইটভাটাকে মোট ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—জরিমানা আদায় হলেও কেন বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম?
আপনার মতামত লিখুন :