নাগেশ্বরীতে কিশোরীকে গ*ণ*ধ*র্ষ*ণ: আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন


hamarkur6 প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৭, ২০২৫, ২:১০ অপরাহ্ন /
নাগেশ্বরীতে কিশোরীকে গ*ণ*ধ*র্ষ*ণ: আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

মাইদুল ইসলাম মামুন,বিশেষ প্রতিনিধি

নাগেশ্বরীতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর পরিবার সকল আসামীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে নাগেশ্বরী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর চাচা আবু তালেব ব্যাপারী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় কিশোরীর বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২৩ জুলাই নাগেশ্বরী ডিএম একাডেমী ফুটবল মাঠে আয়োজিত হস্ত, বস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলায় ডেকে এনে দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে চেতনানাশক খাইয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে রাব্বী মিয়া, জুলহাস মিয়া, শফিয়ার রহমান এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মোতালেব মিয়া। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামী রাব্বী মিয়াকে তারা নিজেরাই ধরে থানায় সোপর্দ করলেও বাকিরা এখনো পলাতক। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি এই ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

গত ২৩ জুলাই, রাব্বী মিয়া, যিনি ভুক্তভোগীর জেঠাতো বোনের স্বামী, তাকে মেলায় ডেকে নিয়ে যায়। পরে গাগলা খামারটারীর একটি ফাঁকা বাড়িতে চেতনানাশক খাইয়ে ধর্ষণ করে। অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকার বাসে তুলে দেওয়া হয়। বাসের সুপারভাইজার তার অবস্থা দেখে ঢাকায় তার বোনের বাসায় পৌঁছে দেন। পরদিন সুপারভাইজার তাকে ফিরতি বাসে নাগেশ্বরী পাঠিয়ে দেন।

নাগেশ্বরীতে বাস থেকে নামার পর রাব্বী আবার তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর তাকে জুলহাস মিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়, যিনি তাকে অটোরিকশায় করে রায়গঞ্জ বোর্ডের বাজারের পাশে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শফি কন্ট্রাক্টার ও মোতালেব মেম্বার তাকে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ভোরবেলা সেখান থেকে বের করে দিলে সে নানার বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১ আগস্ট তাকে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গত ৩ আগস্ট ভুক্তভোগীর বাবা চারজনকে আসামী করে নাগেশ্বরী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলো:
১. রাব্বী মিয়া (আবু তালেবের ছেলে, গাগলা খামারটারী, সন্তোষপুর)
২. জুলহাস মিয়া (আনোয়ার হোসেনের ছেলে, বাঁশেরতল, নাগেশ্বরী পৌরসভা)
৩. শফিয়ার রহমান ওরফে শফি কন্ট্রাক্টার (মৃত বাদর উদ্দিন ওরফে ঢোলার ছেলে, পূর্ব সাপখাওয়া, রায়গঞ্জ)
৪. মোতালেব হোসেন (মৃত খোকন মিয়ার ছেলে, গাটিরখামার, রায়গঞ্জ, ৭নং ওয়ার্ড সদস্য)

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, নাগেশ্বরী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহিম জানান, প্রধান আসামী রাব্বী মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তাদের অবস্থান সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, কোনো আসামী ছাড় পাবে না এবং পুলিশ এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে।