হামার কুড়িগ্রাম

নাগেশ্বরীতে ‘কারেন্ট নাই, বৃষ্টিও নাই’—সেচ-সার সংকটে দিশেহারা কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক ।। হামার কুড়িগ্রাম

বৃষ্টি নেই, বিদ্যুৎ নেই, মিলছে না সার—তিন সংকটে বিপাকে পড়েছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর কৃষকরা। তীব্র গরম আর দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টিতে আমনসহ বিভিন্ন ফসলের জমি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে সেচযন্ত্র চালাতে না পারায় মাঠের ফসল নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। রাতের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কখন বিদ্যুৎ আসবে, আর কখন চলে যাবে—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে বিদ্যুৎচালিত মোটর দিয়ে জমিতে পানি দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

নাগেশ্বরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক ফসলি জমিতে মাটি শুকিয়ে বড় বড় ফাটল ধরেছে। আমন ধানের জমিতে এখন সেচের প্রয়োজন হলেও বিদ্যুতের অভাবে সেচযন্ত্র চালাতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে চোখের সামনে ফসল শুকিয়ে গেলেও অনেকটা অসহায় হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই তাদের।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সারের সংকট। কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময়ে ডিলার ও বিক্রয়কেন্দ্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় সার মিলছে না। ফলে আমন চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ ও সার—দুই দিক থেকেই চাপে পড়েছেন তারা। কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আমন মৌসুমে সার না পাওয়ার অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়েও উঠে এসেছে।

কৃষক বেলাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কারেন্ট নাই, বৃষ্টিও নাই, জমিতে পানি দিবো কিভানে? এভাবে চলতে থাকলে সব ফসল মাঠেই মরে যাবে। আমরা এখন কোন দিকে যাই? আবার সারও পাচ্ছি না। সারের জন্য ডিলারের দোকান ও সারের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও সার পাচ্ছি না। জমিতে শুধু প্রথমেই একবার সার দিয়েছি, এখন দ্বিতীয়বার আর সার পাচ্ছি না। তাহলে কী হবে আমাদের? এই ধান না হলে আমরা খাব কী?”

কৃষকরা বলছেন, আমন ধান তাদের প্রধান ভরসা। জমিতে সময়মতো পানি ও সার দিতে না পারলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। ইতোমধ্যে বৃষ্টির অভাবে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকার আমনক্ষেতে ফাটল ধরার খবরও পাওয়া গেছে।

শুধু কৃষকরাই নন, লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষও। প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, দোকানপাট ও ব্যবসা-বাণিজ্য। বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

‘চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাচ্ছি’

নাগেশ্বরী জোনাল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্টরা জানান, নাগেশ্বরীর চাহিদার তুলনায় কয়েক মাস আগের তুলনায় বর্তমানে কম মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। পাওয়া বিদ্যুৎ সব ফিডারে ভাগ করে দিতে হচ্ছে। এ কারণে একটি লাইন বন্ধ রেখে অন্য একটি লাইন চালু করতে হচ্ছে। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে।

তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে নাগেশ্বরী জোনাল অফিস।

কৃষকদের দাবি, আগে বিদ্যুৎ—তারপর ফসল

কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না করলে শুধু কৃষক নয়, এর প্রভাব পড়বে পুরো খাদ্য উৎপাদনে। তাই কৃষি মৌসুম বিবেচনায় অন্তত দিনের বেলায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

তাদের প্রশ্ন—বৃষ্টি নেই, সার নেই; তার ওপর যদি সেচের জন্য বিদ্যুৎও না থাকে, তাহলে মাঠের ফসল বাঁচবে কীভাবে?

সময়মতো সেচ ও সার নিশ্চিত করা না গেলে এবারের আমন উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন নাগেশ্বরীর কৃষকরা।

Exit mobile version