
ডেস্ক নিউজ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনীরপাঠ বাজারে গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের চাপে বাজারটিতে গরু জবাই ও গরুর মাংস বিক্রি করতে দেওয়া হচ্ছে না।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের যতিনের হাট এলাকায় মূল সড়কের পাশে একটি কালী মন্দিরের বিপরীতে অল্প দূরত্বেই নিয়মিত গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিন গড়ে দুটি গরুর মাংস বিক্রি হয়। অথচ তুলনামূলক বেশি দূরত্বে থাকা নাগেশ্বরীর ডাকনীরপাঠ বাজারে ট্রেড লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীরাও গরুর মাংস বিক্রি করতে পারছেন না।
গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুই মাংস ব্যবসায়ী সালাম ও সিদ্দিক এবং ডাকনীরপাঠ মসজিদ মার্কেটের মালিক আজিজুল হক (অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট)-কে নাগেশ্বরী থানায় ডেকে গরুর মাংস বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপের কারণে বাজারটিতে গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং এখনও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ডাকনীরপাঠ বাজার এলাকায় ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ১শ। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬শ মুসলিম এবং প্রায় ৫শ হিন্দু ভোটার রয়েছেন। মোট জনসংখ্যার বড় অংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানা অফিসার ইন চার্জ আব্দুল্লা হিল জামান বলেন, থানায় বসা বৈঠকে মার্কেট মালিক জানিয়েছেন এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তিনি গরুর মাংস বিক্রয় করবেন না। তবে ওসি’র বক্তব্য অসত্য দাবি করে মার্কেট মালিক আজিজুল হক বলেন, আমি থানায় গিয়ে দেখি লোকে-লোকারন্য। ওসি সাহেব সমাধানের নামে সময় ক্ষেপণ করছেন। কেন জানতে চাইলে বলেন যে, আরও একজন আসবেন তারপর বৈঠক বসবে। এরপর রাজা সাহেব ( অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা, আহবায়ক উপজেলা বিএনপি, নাগেশ্বরী) এসে একপক্ষের কথা শুনে ওসির টেবিল চাঁপড়ে বলেন, পূর্বে ওই বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হয়নি এখনও হবে না, এটা আমাদের বিএনপির সিদ্ধান্ত, তারেক জিয়ার সিদ্ধান্ত। তবে এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
ডাকনীরপাঠ বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সাইদুল ইসলাম বলেন, জুমার খুতবায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুসল্লিদের প্রশ্ন,
মন্দিরে যদি বাধাহীনভাবে পাঠা বলি দেওয়া যায়, তাহলে মুসলমানরা কেন বাজারে গরুর মাংস কিনতে পারবে না?
স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গয়ানাথ জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।
এ বিষয়ে ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিউল আলম সফি বলেন,
যেহেতু বিষয়টি নিয়ে ইউএনও ও ডিসি অফিসে অভিযোগ করা হয়েছে, তাই আমি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। তবে বাজার এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতি রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, আশপাশে কোনো গরুর মাংসের দোকান না থাকায় তাদের ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরের বাজারে যেতে হয়। স্থানীয় বাজারে গরুর মাংস বিক্রি চালু হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।
আপনার মতামত লিখুন :