ডেস্ক নিউজ
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের কিং ছিনাই মৌজায় ধরলা নদীর ভাঙন থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে জিওব্যাগের মাধ্যমে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। তবে কাজটিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের গুণগত মান ও পরিমাণ—দুটিই প্রশ্নবিদ্ধ। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি জিওব্যাগের ওজন শুকনো অবস্থায় ১২৫ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ১০৬ থেকে ১১৫ কেজি পর্যন্ত পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন তারা। এছাড়া কয়েকটি বস্তা খুলে দেখা যায়, প্রায় ৮–১০ দিন আগে সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ দেওয়া হলেও তা শক্ত ব্লক হওয়ার বদলে ঝুরঝুরে বালুর মতো রয়েছে; সিমেন্টের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. দুলাল হোসেন বলেন, “অনেক দিন ধরে এই কাজ চলছে। আমরা এলাকাবাসী বারবার সঠিকভাবে কাজ করার জন্য বললেও তারা তা মানছে না। কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে আমাদের এলাকার কাজের মান খুবই খারাপ হচ্ছে। ক্রয়কৃত বালুর পরিবর্তে নদীর বালু দিয়েই কাজ করা হচ্ছে। এভাবে কাজ করলে নদী ভাঙন থেকে কোনো সুরক্ষা পাওয়া যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো তদারকি না থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এলাকাবাসী ধরলা নদীর ভাঙনের বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এলাকার আরেক বাসিন্দা হাজর উদ্দিন জানান, “কাজটি সঠিকভাবে করার জন্য আমি আমার পৈতৃক সম্পত্তির কিছু অংশ বিনামূল্যে ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু তারা কাজ ঠিকমতো করছে না।”
এ অবস্থায় নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদে এলাকাবাসী সাময়িকভাবে কাজটি বন্ধ করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কাজের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে আসতে ও বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এক কথায় আপনারা যা দেখছেন তাই হচ্ছে, আমার আবার বলার কী আছে?”
এলাকাবাসীর দাবি, কাজ পুনরায় শুরু করার আগে নিম্নমানের ও নষ্ট সব জিওব্যাগ সরিয়ে ফেলে নতুন করে কাজ শুরু করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি জিওব্যাগের ওজন ও গুণগত মান নিশ্চিত করে কাজ চালাতে হবে, নইলে কাজ বন্ধই থাকবে।
উল্লেখ্য, একই প্রকল্পের অপর প্রান্তে লালমনিরহাট জেলার আরেক ঠিকাদারের মাধ্যমে অনুরূপ কাজ চলছে। তবে দুটি কাজের গুণগত মানের মধ্যে চোখে পড়ার মতো পার্থক্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

