Site icon হামার কুড়িগ্রাম

দুই কিশোরীর ধর্মান্তর নিয়ে তোলপাড়, হাফেজ ফেরদৌসকে ঘিরে প্রশ্নে বিতর্ক

নাগেশ্বরী প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে রাজারহাটের দুই হিন্দু কিশোরীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড মসজিদের দ্বিতীয় তলার ক্যাডেট মাদরাসায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে স্থানীয় আলেম সমাজ।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলা হয়, হাফেজ ফেরদৌসের বাড়িতে তল্লাশির সময় পুলিশ নারীদের পর্দা ভঙ্গ করেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আলেম সমাজের নেতারা বলেন, প্রশাসনের এমন কর্মকাণ্ড অগ্রহণযোগ্য এবং এটি ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হেনেছে।

তবে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নে হাফেজ ফেরদৌসের ভূমিকা আলোচনায় উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, দুই হিন্দু কিশোরীর ধর্মান্তরের আগে থেকেই তার সঙ্গে ফেরদৌসের যোগাযোগ ছিল এবং তিনি আদালতে এফিডেভিট প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছেন। এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যান ফেরদৌস। আরেক প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, তল্লাশির সময় পুলিশের পাশাপাশি হাতে লাল সুতা বাঁধা কিছু লোক উপস্থিত ছিলেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে কোনো প্রমাণ বা ভিডিও উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আলেম সমাজের প্রতিনিধি মুফতি আতাউর রহমান বিক্রমপুরী বলেন, “আমরা আপাতত কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করছি না। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হোক—এটাই চাই। তবে পূজা চলাকালীন সময়ে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে তার দায়ভার আমাদের নয়। পূজা শেষে সমাধান না হলে আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবো।”

এ সময় তারা কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাহফুজ, নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ, রাজারহাট থানার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অন্যদিকে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন, “রাজারহাট থানার অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত অনুসারে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এ অভিযানে পুরুষ পুলিশের পাশাপাশি মহিলা পুলিশও ছিলেন। সিভিল পোশাকধারী সদস্যদের ইসকন বলা হচ্ছে, যা ভিত্তিহীন।” তিনি জানান, পুরো অভিযানের ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে আলেম সমাজ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানায়। তারা বলেন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা যেন না ঘটে এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করে।

Exit mobile version