দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত কুড়িগ্রাম গড়তে ঢাবিতে তরুণদের আলোচনা সভা


HK প্রকাশের সময় : মে ৯, ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন /
দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত কুড়িগ্রাম গড়তে ঢাবিতে তরুণদের আলোচনা সভা

নিউজ ডেস্ক |শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কুড়িগ্রাম স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইন ঢাকা (কেএসডব্লিউএডি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেমিনার ও তরুণদের চোখে কেমন কুড়িগ্রাম চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা। শুক্রবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা কুড়িগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা, অর্থনীতি, নদীকেন্দ্রিক সম্ভাবনা এবং তরুণদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক এবং কেএসডব্লিউএডির সাবেক সভাপতি মো. ইমন মিয়া বলেন, “আমরা এমন একটি কুড়িগ্রাম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে দারিদ্র্য মানুষের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে থামিয়ে দিতে পারবে না। নদীমাতৃক এই জেলাকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে আমরা কাজ করতে চাই। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে হতাশার যে গল্প প্রচলিত, আমরা সেই ধারণা বদলাতে চাই। এই নদীগুলোই হতে পারে মানুষের সম্ভাবনা, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রধান শক্তি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামিম আক্তার শুভ বলেন,
“কৃষি ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ কুড়িগ্রামকে আধুনিক ও টেকসই অর্থনীতির একটি শক্তিশালী জেলায় রূপ দিতে চাই আমরা। কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, উন্নয়নের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার শিক্ষা। তাই ঘরে ঘরে বিভ্রান্তি নয়, পৌঁছে দিতে চাই শিক্ষার আলো। আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যা হবে মাদক ও জুয়ামুক্ত। যেখানে তরুণরা হতাশায় নয়, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করবে। আমাদের স্বপ্ন একটি মানবিক, শিক্ষিত, কর্মমুখর ও সম্ভাবনাময় কুড়িগ্রাম, যা আগামী প্রজন্মের গর্ব হয়ে উঠবে।”

সংগঠনটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান বলেন, “কুড়িগ্রামের তরুণদের মাঝে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, একসময় চিলমারী বন্দর ছিল উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। মির্জা নাথানের ‘বাহারিস্তান-ই-গায়বী’ গ্রন্থেও সেই গৌরবের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই জৌলুশ হারিয়ে গেছে। আমরা চাই, নতুন পরিকল্পনা, নদীপথের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রসারের মাধ্যমে আবারও চিলমারীর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হোক।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের পৃথিবীতে উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোনির্ভর নয়; উন্নয়ন মানে মানবিকতা, সচেতনতা ও দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা। তাই আমাদের কুড়িগ্রাম হতে হবে একটি শিক্ষিত, মানবিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈষম্যহীন জনপদ।”

শেষে তিনি কসাডকে সঙ্গে নিয়ে কুড়িগ্রামের সাক্ষরতা, অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “কুড়িগ্রাম শুধু আমাদের জন্মভূমি নয়, এটি আমাদের স্বপ্ন, আমাদের দায়িত্ব এবং আমাদের ভালোবাসার জায়গা।”