তিন বছর পর আলোকিত উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউপি পরিষদ, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ফিরল স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম


HK প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন /
তিন বছর পর আলোকিত উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউপি পরিষদ, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ফিরল স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | হামার কুড়িগ্রাম

দীর্ঘ প্রায় তিন বছর অন্ধকারে ডুবে থাকা কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের ফলে এখন পরিষদ ভবনে আবার জ্বলছে বাতি, চলছে ফ্যান এবং সচল হয়েছে দাপ্তরিক কার্যক্রম।

হামার কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটে বলে জানান স্থানীয়রা।

একসময় তালাবদ্ধ কক্ষ, অন্ধকার অফিস এবং স্থবির প্রশাসনিক কার্যক্রম ছিল এ ইউনিয়ন পরিষদের নিত্যদিনের চিত্র। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা এখন স্বাভাবিকভাবে প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে পুরো প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। অনেক সময় পরিষদ ভবনে তালা ঝুলতো, আবার কখনও চায়ের দোকান কিংবা হাটবাজারে বসেই দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করতে হতো, এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সেবা প্রত্যাশীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, বছরের পর বছর বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকলেও তা পরিশোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সময়মতো বিল পরিশোধ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

পরবর্তীতে উলিপুর উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনার পর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বাবলু মিয়া প্রায় ৭৬ হাজার টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দুই কিস্তিতে পরিশোধ করেন। এরপর বিদ্যুৎ বিভাগ পুনরায় সংযোগ চালু করলে তিন বছর পর আবারও আলোকিত হয় বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ।

বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরে আসার পর পরিষদের পরিবেশেও এসেছে পরিবর্তন। এখন নিয়মিত অফিস কার্যক্রম চলছে, কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে এবং দ্রুত নাগরিক সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। পরিষদে আসা একাধিক সেবা প্রত্যাশী জানান, আগে এখানে এসে মনে হতো এটি পরিত্যক্ত ভবন। এখন স্বাভাবিক পরিবেশে সেবা পাওয়া যাচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ইউনিয়ন পরিষদ শুধু একটি প্রশাসনিক ভবন নয়, এটি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার কেন্দ্র। সেই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন অন্ধকারে ডুবে থাকা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। তবে এখন আলো ফিরে আসায় জনমনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বাবলু মিয়া বলেন, “বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে।”

তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না হলে কি এখনো অন্ধকারেই পড়ে থাকতো বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ? এখন দেখার বিষয়, ফিরে আসা এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হয় এবং জনসেবার মান কতটা উন্নত করা যায়।