ফজলুল করীম ফরাজী, কুড়িগ্রাম
মাতৃত্ব ও শিক্ষাজীবন—দুটি বড় দায়িত্ব একসঙ্গে সামলে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুড়িগ্রামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। সন্তান জন্মের মাত্র তিনদিন পরই পরীক্ষার হলে উপস্থিত হয়ে নিজের দৃঢ় মনোবল ও স্বপ্নপূরণের অদম্য ইচ্ছার পরিচয় দিয়েছেন হাওয়া আক্তার।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা হযরত আলীর মেয়ে হাওয়া আক্তারের গত ১৮ এপ্রিল সিজারিয়ান অপারেশন হয়। অপারেশনের পর শারীরিকভাবে দুর্বল থাকলেও তিনি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াননি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে নবজাতক সন্তানকে পরিবারের সদস্যদের কাছে রেখে তিনি কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের পরীক্ষার হলে উপস্থিত হন। নির্ধারিত সময়ে ‘কুরআন মাজিদ ও তাজভীদ’ বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি।
এদিকে, পরীক্ষার সময় তার নবজাতক সন্তানকে নিয়ে পরিবারের একজন সদস্য কেন্দ্রের পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ফলে একদিকে চলেছে মায়ের পরীক্ষা, অন্যদিকে সন্তানের যত্ন—দুটি দায়িত্বই সামলানো হয়েছে সমানভাবে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়ার এই ঘটনা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। হাওয়া আক্তারের এই সাহসিকতা প্রমাণ করে, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই বড় নয়।
পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ নুর বখত মিঞা জানান, তাদের কেন্দ্রে প্রায় ১ হাজার ১০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে একজন ছাত্রী মাত্র তিনদিন আগে সিজার হওয়ার পরও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
তবে এ বিষয়ে হাওয়া আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

