
নিউজ ডেস্ক অনলাইন:
রাজধানীর গুলশান-২ থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘ফেলানী অ্যাভিনিউ’। সীমান্তে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে এ নামকরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) এক ফেসবুক বার্তায় এ তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি লিখেন, “সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানীর স্মরণে ডিপ্লোমেটিক জোনের গুলশান-২ থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত সড়কটির নতুন নাম ‘ফেলানী অ্যাভিনিউ’।”
এর আগে, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ জানাতে গুলশানে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে সড়কটিকে ‘শহীদ ফেলানি সড়ক’ ঘোষণা করে নামফলক স্থাপন করেছিল পিপলস অ্যাকটিভিস্ট কোয়ালিশন (প্যাক) নামের একটি সংগঠন। তবে এবার সরকারি উদ্যোগে এই সড়কের আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হলো।
ফেলানী হত্যাকাণ্ড: এক দশকেরও বেশি সময়ের বেদনার স্মৃতি
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানী খাতুন। বাবা-সংসর্গে ভারতে কাজ করে ফেরার পথে কাঁটাতার টপকাতে গিয়েই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর মরদেহ চার ঘণ্টারও বেশি সময় সীমান্তে ঝুলে ছিল। সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে—ঘটনা তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয় বাংলাদেশে এবং ভারতে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ঘটনার বিচার দাবি জানায়।
ভারতের পক্ষ থেকেও মানবাধিকার কর্মীরা প্রতিবাদ জানান। ফেলানী খাতুন হত্যা মামলা বর্তমানে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে চলমান, যেখানে বিচারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ভারতের সিনিয়র আইনজীবী বিজন ঘোষ।
জনগণের দাবি থেকে সরকারি স্বীকৃতি
ফেলানীর হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বহু সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন গুলশানে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে সড়কটিকে ফেলানীর নামে নামকরণের দাবি জানিয়ে আসছিল। অবশেষে সরকারি সিদ্ধান্তে সেই দাবি বাস্তবে রূপ পেল ‘ফেলানী অ্যাভিনিউ’ নামের মাধ্যমে।
মানবাধিকার কর্মী, সীমান্ত নিহতদের পরিবার ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন—এ উদ্যোগ ফেলানীর প্রতি জাতির সম্মান প্রদর্শন, একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবি আরও জোরালো করবে।
আপনার মতামত লিখুন :