Site icon হামার কুড়িগ্রাম

ডেঙ্গু, গুপ্ত রাজনীতি এবং জাশি: এক বিকল্প বাস্তবতা – আমিমুল ইহছান

✍️ আমিমুল ইহছান | সভাপতি, কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদল

ডেঙ্গু মশা বা এডিস মশা বিশেষ করে বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানি—যেমন ফুলের টব, কফির বা চায়ের কাপ, পুরনো টায়ার এবং অপরিচ্ছন্ন স্থানে—জন্মায় এবং সেখানে তারা ডিম পাড়ে ও বংশবিস্তার করে। এই কারণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা যে সকল জায়গায় জন্মায়, সেগুলো পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। ডেঙ্গু বা এডিস মশার উৎপত্তিস্থল এবং করণীয় সম্পর্কে সচেতন হলে এডিস বা ডেঙ্গু মশা থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব।

এখন আসুন, একটু হিসাব মেলানো যাক—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কে বলা হয় প্রগতিশীল, অর্থাৎ মুক্ত চিন্তার তীর্থস্থান। দল-মত নির্বিশেষে সবারই দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, ঢাবিতে কখনোই শিবিরের স্থান হবে না।

ফলাফল তো সামনে। এবার আসুন জাকসুতে!

দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে শিবির বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ।
তবুও, বাস্তবে কী হলো?

এই দুটো ক্যাম্পাসে কি কখনো দেখেছেন শিবিরকে প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে?
৫ই আগস্টের আগে কখনো কি শুনেছেন বা দেখেছেন শিবিরের কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি?

উত্তর: অবশ্যই না।
সকল জায়গায় তারা ছিল গুপ্ত।

তাদের সংগঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—জেলা পর্যায়ে কর্মসূচিনির্ভরভাবে কেবল দু’টি নাম উঠে আসে: সভাপতি ও সম্পাদক। এ ব্যতীত আপনি যদি কাউকে চেনেন, সে কেবল একজন কর্মী, তার সংগঠনের পদবী দিয়ে নয়।

ফলাফল:

যেখানে রাজনীতি নিষিদ্ধ, সেখানেই সংগঠনটির বাম্পার ফলন।
অর্থাৎ, গুপ্ত রাজনীতিকে তারা সফলতার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

জাশি: একটি সমিতি, একটি কৌশলগত বাস্তবতা

জাশি (জামাআত-শিবির) — এর কার্যক্রম কখনই দেশে প্রচলিত রাজনৈতিক দলের মত উন্মুক্ত নয়।

একটি সমিতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে—সর্বাবস্থায় তার সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং সংগঠনকে লাভজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।
সমিতি কখনোই নিজ সদস্যদের ক্ষতি করে অন্য সমিতির পক্ষে দাঁড়ায় না।
সমিতি সুখে-দুঃখে, সব সময় তার সদস্যদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।

হিসেব মিলিয়ে দেখলে দেখা যায়—জাশি এর ব্যতিক্রম নয়।

জাশির প্রধান অস্ত্র:

১. ধর্ম:
ধর্মকে প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে তারা ৭৯টি বই মুদ্রণ করেছে, যা তাদের চিন্তা-চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে ব্যবহৃত হয়।

২. অর্থনৈতিক হাতিয়ার:
সমিতির অধীনে রয়েছে বহু লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে অর্জিত লভ্যাংশ তারা ব্যয় করে অসচ্ছলদের পেছনে—ঠিক যেভাবে পশ্চিমারা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিশ্বে কর্তৃত্ব বজায় রাখে।

৩. একতা ও শৃঙ্খলা:
সমিতির সদস্য সংখ্যা নির্ধারিত। তারা উক্ত বইপত্র ও নিজস্ব ব্যাখ্যার সমন্বয়ে ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করে এবং দৈনন্দিন কার্যতালিকার মাধ্যমে সদস্যদের সুসংগঠিত রাখে।

যেখানে আলো নিষিদ্ধ, সেখানেই ছায়া গভীর হয়।
ডেঙ্গুর মতো, গুপ্ত সংগঠনগুলোকেও প্রতিরোধ করতে হলে শুধু “নিষিদ্ধ” করলেই হবে না—চাই স্বচ্ছতা, সচেতনতা এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিসর।
তবে-ই সামাজিক পরিসর হবে মশামুক্ত, ছায়ামুক্ত।

Exit mobile version