টেকসই জ্বালানি ও স্মার্ট বন্যা ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্ভাবনী প্রজেক্ট: জেলা পর্যায়ে প্রথম কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ


HK প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ন /
টেকসই জ্বালানি ও স্মার্ট বন্যা ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্ভাবনী প্রজেক্ট: জেলা পর্যায়ে প্রথম কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রজেক্ট প্রদর্শনীতে সিনিয়র গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। “Sustainable Power Generation And Safe City” শীর্ষক ব্যতিক্রমধর্মী এই প্রজেক্টটি টেকসই জ্বালানি উৎপাদন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে।

“৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৬”-এর জেলা পর্যায়ে অংশ নিয়ে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ দল এ সাফল্য অর্জন করে। প্রজেক্টটির মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি নিরাপদ ও আধুনিক নগরব্যবস্থা গড়ে তোলার কার্যকর ধারণা উপস্থাপন করা।

প্রজেক্টে বায়োমাসকে HTL (Hydrothermal Liquefaction) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রুড অয়েলে রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে সেই ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে পেট্রোল ও ডিজেল উৎপাদনের ধারণাও উপস্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও বন্যা নিয়ন্ত্রণে নদীর পাড়ে বিশেষ ধরনের বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা দেখানো হয়। ওই বাঁধে স্থাপন করা হবে স্বয়ংক্রিয় সুইচ গেট, যা পানির স্তর বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছালে নিজ থেকেই খুলে যাবে। এতে সৃষ্ট পানির প্রবল স্রোতকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রজেক্টে আরও যুক্ত করা হয়েছে একটি স্মার্ট ফ্লাড ওয়ার্নিং সিস্টেম। এর মাধ্যমে শহরে বন্যার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছালে আগাম সতর্কবার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন ধারণা হিসেবে শিক্ষার্থীরা স্পিডব্রেকারে হাইড্রোলিক প্রেস প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাবও তুলে ধরে। তাদের দাবি, একটি স্পিডব্রেকারের উপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার যানবাহন চলাচল করলে প্রায় ১৪৪ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।

প্রজেক্টটির কো-অর্ডিনেটর ছিলেন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক কবির হোসেন। শিক্ষার্থীদের এ উদ্ভাবনী উদ্যোগকে শিক্ষক ও অভিভাবকরা ভবিষ্যতের টেকসই উন্নয়ন ভাবনার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

দলের সদস্য শাহি বলেন,

“অনেক দিনের পরিশ্রম ও চেষ্টা শেষে এই অর্জন আমাদের জন্য সফলতার একটি ছোট ধাপ মাত্র। আমাদের টিমের সদস্য আলিফ, আমি, অর্ণব, জয়িতা, নিরব, দাইয়ান, অবনী, জাইমা, অয়ন, নুবা, কাম্য, শিশির ও লাবিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এ পর্যন্ত আসা সম্ভব হয়েছে। সামনে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা রয়েছে। আমরা আশাবাদী, সেখানেও আমাদের কলেজ তথা কুড়িগ্রামের নাম উজ্জ্বল করতে পারব। সবার দোয়া কামনা করছি।”