টানা ভারী বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা, দুশ্চিন্তায় কৃষক


HK প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২৬, ৫:২৮ পূর্বাহ্ন /
টানা ভারী বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা, দুশ্চিন্তায় কৃষক

কুড়িগ্রামে চলতি মৌসুমের সবচেয়ে ভারী বৃষ্টিপাতে বোরো ধান চাষে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও কৃষিজমিতে পানি জমে যায়। এতে পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে পড়ে এবং অনেক জায়গায় ধান কাটা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে মাঠের ধান নষ্ট হয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এখন বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুম চলছে। গত কয়েক দিনে কিছু জমির ধান কাটা গেলেও এখনও প্রায় অর্ধেক জমির ধান মাঠে রয়েছে। এমন সময়ে টানা ভারী বৃষ্টি কৃষকদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে।

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন,
“আমার পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ধান কাটতে পারছি না। কয়েকদিন পানি থাকলে অনেক ধান নষ্ট হয়ে যাবে।”

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক এলাকায় ধান কেটে মাঠে রাখা হয়েছিল। হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে সেই ধানও ভিজে গেছে। ফলে ধানের মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিচু জমিগুলোতে পানি জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
“রাত থেকে ভারী বৃষ্টিতে ধানের জমিতে পানি জমে গেছে। পানি নেমে গেলে কৃষকেরা আবার ধান কাটতে পারবেন। তবে পানিতে নিমজ্জিত কিছু জমির ধান, পাট ও সবজির ক্ষতি হতে পারে। বৃষ্টি থামার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।”

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। আগামী ৭২ ঘণ্টা আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে টানা বর্ষণে শুধু কৃষিখাত নয়, জনজীবনেও দুর্ভোগ নেমে এসেছে। জেলার বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের আয়ও কমে গেছে।

কৃষকরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে এবার বোরো মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।