
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় টানা প্রায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত এই দুই উপজেলা কার্যত বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় কয়েক লাখ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। এর মধ্যে রবিবার রাতে মাত্র ৪৫ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও পরে আবার বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা প্রায় সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি অনলাইননির্ভর সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেককেই মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
এদিকে, তেলের পাম্পগুলো গত ১৫ দিন ধরে বন্ধ থাকায় এবং ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকগুলো চার্জ দিতে না পারায় সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেক পরীক্ষার্থীকে পায়ে হেঁটে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর চালানোর সুযোগও নেই, কারণ তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। রৌমারীর চরশৌলমারীসহ বিভিন্ন বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং ও ইন্টারনেটনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরাও গাড়ি চালাতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
আপনার মতামত লিখুন :