
উপজেলা প্রতিনিধি, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম–৩ (উলিপুর) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে ইসলামী ধারার দলগুলোর মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এই আসনকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক হিসাব–নিকাশের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন জোটের মনোনয়ন এবং কার হাতে যাবে উলিপুরের নিয়ন্ত্রণ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে কুড়িগ্রাম–৩ (২৭) আসনে তাদের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহীকে। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি। সংগঠক হিসেবে তার দীর্ঘদিনের পরিচিতি থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা ও ভোটব্যাংক নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা–সমালোচনা চলছে।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন মোহাম্মদ আক্কাছ আলী সরকার। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা এবং কুড়িগ্রাম–৩ (উলিপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। স্থানীয় পর্যায়ে তার ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক, অতীত সংসদীয় ভূমিকা এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে চলছে তীব্র তুলনামূলক আলোচনা। একে অপরের বিগত রাজনৈতিক ভূমিকা, আন্দোলন–সংগ্রাম, সাংগঠনিক অবস্থান ও জনসম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কে মাঠে বেশি শক্তিশালী এবং কে জোটের জন্য নিরাপদ প্রার্থী—তা নিয়েই চলছে নানা হিসাব–নিকাশ।
এদিকে ইসলামী ধারার দলগুলো নিয়ে গঠিত ৮ দলীয় সমন্বয় জোট নিয়েও আলোচনা তুঙ্গে। এই জোটে রয়েছে—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি। এই জোট থেকেই চূড়ান্তভাবে একজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সমঝোতায় পৌঁছানো না যাওয়ায় অনিশ্চয়তা কাটেনি।
এমন টানাপোড়েনের মধ্যেই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপির প্রার্থী তাসভীর উল ইসলাম। তিনি কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে দলটির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। বিএনপির পক্ষ থেকে কুড়িগ্রাম–৩ (উলিপুর) আসনে তাকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই তিনি মাঠপর্যায়ে দলীয় সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছেন এবং ভোটের কৌশল বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে যদি শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রশ্নে ঐক্য না হয় কিংবা ভোট বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে বিএনপির প্রার্থী তাসভীর উল ইসলাম এই আসনে ‘ফাঁকা মাঠে গোল’ দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। ইতোমধ্যে তিনি নীরবে দলীয় যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন এবং বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করছেন বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে কুড়িগ্রাম–৩ (উলিপুর) আসনে নির্বাচন এখনো খোলা খেলায় পরিণত হয়েছে। শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমঝোতা, ৮ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত এবং কেন্দ্রীয় কৌশলের ওপরই নির্ভর করছে চূড়ান্ত চিত্র। ফলে এই আসনে শেষ পর্যন্ত কার কপালে জোটের মনোনয়ন ও বিজয়—সেই অপেক্ষায় এখন উলিপুরের ভোটার ও রাজনৈতিক অঙ্গন।
আপনার মতামত লিখুন :