হামার কুড়িগ্রাম

চিলমারীতে এমপির পিএসের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা: ‘হামলা’ অভিযোগে দুই যুবক কারাগারে, বিতর্ক গ্রেফতার নিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক | হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) সানাউল্লাহ সরকারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই যুবককে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় চিলমারী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে চিলমারী থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে উপজেলার মাটিকাটা মোড়ে যানজটের সৃষ্টি হলে এমপির পিএস সানাউল্লাহ সরকার গাড়ি থেকে নেমে যানজট নিরসনের চেষ্টা করেন।

এ সময় একটি অটোরিকশায় থাকা দুই যুবককে সাইড দিতে বলাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই ভাইকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আটককৃতরা হলেন উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর (চুনিয়ারপাড়া) এলাকার মো. আতাউর রহমান (৩৫) ও মো. রেজাউল করিম (২৪)। তারা উভয়েই মো. আইয়ব আলীর ছেলে।

এ বিষয়ে এমপির পিএস মো. সানাউল্লাহ সরকার বলেন,
“এমপি স্যারের কুড়িগ্রামে একটি মিটিং ছিল। তাই আমরা সন্ধ্যায় চিলমারী থেকে রওনা করি। পথিমধ্যে মাটিকাটায় যানজট দেখে আমি নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করি। তখন দুই যুবক আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। আমি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা আমাকে মারধর করে। এ সময় আমাদের দলীয় এক ব্যক্তিকে ঘুষি মেরে তার দাঁত ফেলে দেওয়া হয়।”

অন্যদিকে অভিযুক্তদের পরিবারের দাবি, ঘটনাটি ছিল ভুল বোঝাবুঝির ফল। তারা জানান, আটক দুই যুবক এমপির পিএসকে চিনতেন না এবং পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘটনাস্থলে তীব্র যানজট ছিল এবং সেখানে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। তবে তারা এমপির পিএসের ওপর সরাসরি হামলার কোনো দৃশ্য দেখেননি বলে দাবি করেন।

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলার আহ্বায়ক লোকমান হোসেন লিমন বলেন,

“দুই যুবকের কথা-কাটাকাটিকে সমর্থন করি না। তবে সামান্য বাগবিতণ্ডাকে ‘হামলা’ আখ্যা দিয়ে গ্রেফতার করা ফ্যাসিবাদী আচরণের সামিল। এমপি মহোদয় চাইলে ক্ষমতার প্রয়োগ না করে বিষয়টি সমাধান করতে পারতেন। আমরা আশা করবো, তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি যে ক্ষমতার প্রয়োগ হয়েছে তা অনুধাবন করে মামলা প্রত্যাহার করে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।”

চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,

“এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

Exit mobile version