হামার কুড়িগ্রাম

চারলেন সড়ক, রেলসেতু—কুড়িগ্রামের যোগাযোগ বদলে দিতে সংসদে জোর দাবি ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী এমপির

নিজস্ব প্রতিবেদক | Hamar Kurigram

যোগাযোগ অবকাঠামোয় পিছিয়ে থাকা কুড়িগ্রামকে দেশের মূল সড়ক ও রেল যোগাযোগের সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করতে কুড়িগ্রাম-উলিপুর-চিলমারী সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ, মাওলানা ভাসানী সেতু হয়ে বগুড়া পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ এবং চিলমারীতে রেলসেতু নির্মাণের জোর দাবি উঠেছে সংসদে।

সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে কুড়িগ্রাম-০৩ সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী জেলার যোগাযোগব্যবস্থার বেহাল চিত্র তুলে ধরে এসব প্রকল্প দ্রুত গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম-উলিপুর-চিলমারী সড়ককে চারলেন আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করা হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে মাওলানা ভাসানী সেতু হয়ে বগুড়া পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ করা গেলে কুড়িগ্রামের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হবে।

সেতু আছে, কিন্তু চলে না যানবাহন!

বক্তব্যে তিনি বলেন, মাওলানা ভাসানী সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক এখনও যানবাহন চলাচলের উপযোগী নয়। ফলে সেতু থাকলেও এর পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।

তার ভাষায়, সেতুর দুই পাশের রাস্তা উপযোগী না হওয়ায় সেতুটির ওপর দিয়ে বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

এ অবস্থায় সেতুর সংযোগ সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি পুরো সড়ক নেটওয়ার্ককে আধুনিক ও চারলেন করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নদীবন্দর-স্থলবন্দর-ইপিজেড—সম্ভাবনার দুয়ারে কুড়িগ্রাম

সংসদ সদস্য বলেন, কুড়িগ্রামে রয়েছে চিলমারী নদীবন্দর ও সোনাহাট স্থলবন্দর। পাশাপাশি রয়েছে প্রস্তাবিত কুড়িগ্রাম ইপিজেড। উলিপুরেও বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ চলছে।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রামের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি তৈরি হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন উন্নত ও দ্রুতগতির সড়ক যোগাযোগ।

চিলমারীতে রেলসেতু হলে বদলে যাবে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের চিত্র

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর একটি হলো চিলমারীতে রেলসেতু নির্মাণ করে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের রুট চিলমারী পর্যন্ত সম্প্রসারণ।

বক্তব্যে বলা হয়, রেলসেতু নির্মাণ করে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসকে চিলমারী পর্যন্ত নেওয়া সম্ভব হলে ঢাকার সঙ্গে কুড়িগ্রামের যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হবে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি চিলমারী নদীবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসতে পারে।

এ সময় মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কুড়িগ্রামের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি রেলসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান সংসদ সদস্য।

কুড়িগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—সড়ক হবে চারলেন, সেতু হবে সচল, রেল যাবে চিলমারী; বদলে যাবে জেলার যোগাযোগের চিত্র।

Exit mobile version