চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে কাজ করছেন ডিসি, দিন বদলে স্বপ্ন দেখছেন মানুষজন


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৯, ২০২৫, ৩:৩৪ অপরাহ্ন /
চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে কাজ করছেন ডিসি, দিন বদলে স্বপ্ন দেখছেন মানুষজন

মোঃ মশিউর রহমান বিপুল

কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ডিসি নুসরাত সুলতানা।আশ্বাস নয় দৃশ্যমান কাজের অগ্রগতি দেখে ভুয়সী প্রশংসা করেছেন মানুষজন।জেলার মানুষের কাছে ডিসি নুসরাত সুলতানা যেন আশির্বাদ হয়ে এসেছেন এমন মন্তব্য করছেন চরাঞ্চলের মানুষজন।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক হিসেবে গত ১১ মাস আগে যোগদান করেন তিনি। যোগদানের পরই চরাঞ্চলের মানুষের খোঁজ খবর নিতে ছুটে যান জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে।জেলার চরের মানুষের জীবন মানের অবস্থা দেখে এলাকার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেন তাদের জন্য কাজ করার।পিছিয়ে পড়া চরের অবহেলিত শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বেকার যুব মহিলাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সহ চরাঞ্চলকে একটি মডেল হিসেবে উন্নয়ন করবেন বলে প্রতিশ্রতি দেন।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত সোমবার(৪ আগষ্ট) দিনব্যাপী জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ি ইউনিয়নের ৪,৬,ও ৯ নং সহ ওয়ার্ডের চর সবুজ পাড়ায় প্রায় ৪০ হাজার চরবাসির চলাচলের জন্য একটি কাঠের ব্রিজ ও একটি রাস্তার উদ্বোধন করেন তিনি।

এছাড়াও জেলা প্রশাসক বেরুবাড়ি ৯ নং ওয়ার্ডের চর সবুজ পাড়ায় ১০ টি সোলার পানেল স্হাপন, ১ টি শিশু পার্ক, ১ টি হাই স্কুলের জন্য জায়গা নির্ধারণ,কবরস্হান উঁচু করণ সহ চরের অর্ধশত যুব মহিলাদের হস্তশিল্প প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের তৈরি করা নকশি কাঁথা পরিদর্শন এবং উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য বিক্রয় ও লোনের ব্যবস্হা করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পরিবেশবান্ধব ৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারার বরাদ্দ করেন, নদী ভাঙ্গনরোধে এবং মানুষের বাড়ি-ঘড় রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙ্গন কবলিত স্থানে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করেন তিনি। জেলা প্রশাসক চরে কয়েক মাইল পায়ে হেঁটে হেঁটে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে চরের পরিবারগুলোর খোঁজ খবর নেন।
অন্যদিকে ঝুনকার চরে গর্ভবতী মায়েদের ফ্রি ঔষধ সহ চিকিৎসার ব্যবস্হা করেন তিনি।

ডিসি নুসরাত সুলতানার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অনন্য ভুমিকা পালন দেখে চরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষ আনন্দে উদ্দেলিত হয়ে পড়েন, তাদের অনেকেই বলেন স্বাধীনতার পর আমরা ডিসি নাম শুনেছি, কিন্তুু দেখিনাই, আজ সেই ডিসি আমাদের ঘরের দুয়ারে এসেছেন, আমরা তার জন্য দোয়া করি। এরকম ডিসি যদি দেশের অন্যান্য জেলায় থাকতো তাহলে হয়তো আমাদের মতো অবহেলিত মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হতো।

এসময় জেলা প্রশাসকের সাথে ছিলেন, নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিব্বির আহমেদ, নাগেশ্বরী থানা ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. ময়দান আলী, সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান,৬,৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও স্হানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ চর এলাকার মানুষজন।