ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রামের জনজীবন, শ্রমজীবীদের দুর্ভোগ বেড়েছে


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ৬:২২ অপরাহ্ন /
ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রামের জনজীবন, শ্রমজীবীদের দুর্ভোগ বেড়েছে

রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধি

নিউজ ডেস্ক

রাতভর কুয়াশা, দিনেও সূর্য দেখা মিলছে দেরিতে—তীব্র শীতে নাজেহাল কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষ। নিচু আয়ের শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।

রাতভর বৃষ্টির মতো ঝরতে থাকা কুয়াশা, সঙ্গে শিরশিরে ঠান্ডা বাতাস—এতে কুড়িগ্রামের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিকাল থেকে শুরু হয়ে পরদিন সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে চারপাশ। সূর্যের দেখা মিলতে দেরি হওয়ায় শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাজের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজারহাট উপজেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ—নিশ্চিত করেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।

শীতে কাজ করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের শামসুল হক বলেন, “কাজ না করলে পেটে ভাত যায় না। আবার কাজ করলে হাত-পা জ্বালাপোড়া করে।”

নুনখাওয়া ইউনিয়নের চর কাপনার তাইজুল ইসলাম জানান, “গরিব মানুষ কম্বল কিনতে পারে না, এখন পর্যন্ত কোনো মেম্বার-চেয়ারম্যানও কম্বল দেয় নাই।”

এদিকে শীতের প্রভাবে শিশু ও বৃদ্ধদের ঠান্ডাজনিত রোগ বেড়েছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ির বায়জিদ জানান, “অতিরিক্ত শীতে আমার ছোট বাচ্চা কয়েকদিন ধরে জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভুগছে।”

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, “শীতের কারণে ডাইরিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কেউ বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে, কেউ আবার হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।”

শীত মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ চলছে জানিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “জেলায় ৯টি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার কম্বল বিতরণ চলছে।”