Site icon হামার কুড়িগ্রাম

খানাখন্দে ভরপুর কুড়িগ্রাম শহরের সব সড়ক

নিউজ ডেস্ক

কুড়িগ্রাম জেলা শহরের গুরুত্বপুর্ণ দুটি সড়ক খানাখন্দে ভরে থাকায় দুর্ভোগে পথচারী, যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীরা। খানখন্দ হওয়ার কারণে প্রতিদিন নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি রাস্তার একটি সড়ক বিভাগের, আরেকটি পৌরসভার। দীর্ঘদিন মেরামত না করায় সড়ক দুটির বেহাল দশার জন্য সংশিষ্ট দপ্তরকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে জনগণের ভোগান্তি বিবেচনায় সংস্কারের আশ^াস দুই দপ্তরের। সড়কে অসংখ্য গর্তে জমে আছে বৃষ্টির কাদা পানি। ভাঙা রাস্তার ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন। পথচারী আর যাত্রীদের চরম কষ্টে চলতে হচ্ছে।


কুড়িগ্রাম জেলা শহরের ঘোষপাড়া থেকে তারামন বিবির মোড় পর্যন্ত সড়ক বিভাগের প্রায় দুই কিলোমিটার ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক থেকে গহওরপার্ক পর্যন্ত পৌরসভার প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই চলাচলের অনুপোযোগী। অথচ এই সড়কে পাশে রয়েছে জেলার সবচেয়ে বড় কাঁচামালসহ চালের আরদ, কাপড় মার্কেটসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়াও এই সড়ক দুটি দিয়েই চলাচল করছে সোনাহাট স্থলবন্দর কেন্দ্রীক যানবাহনও।

দীর্ঘদিন সড়ক সংস্কার না করায় চরম ভোগান্তিতে যানবাহনের চালক ও পথচারীরা। দ্রুত সড়ক দুটি মেরামতের দাবি ভুক্তভোগীদের। কুড়িগ্রাম পৌরসভার আওতায় ১শ’ ৬৩ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ৩৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে জেলা শহরের অভ্যন্তরে দেড় কিলোমিটার। আর সড়ক বিভাগের আওতায় ২শ’ ৭১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ৩৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে জেলা শহরের অভ্যন্তরে ২ কিলোমিটার। এ দিকে পৌরসভার আওতায় থাকা গুরুত্বপুর্ণ সড়কটি দ্রুত মেরামতের আশ^াস মিললেও গত এক বছর ধরে মন্ত্রণালয়ে আটকে থাকা দরপত্রের অনুমোদনের অপেক্ষায় সড়ক বিভাগ।

অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ করার কথা জানায় সড়ক বিভাগ। জিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, কুড়িগ্রাম জেলায় জিয়া বাজার সবচেয়ে জেলার বড় সবজির পাইকারি বাজার। এখানে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসে। রাস্তা খারাপের কারণে লোকজন এখন কম আসে। এতে এই বাজারের ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ড্রাইভার হাসেম আলী জানান, কুড়িগ্রামের মধ্যে গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি। রাস্তা অনেক ছোট। একটি গাড়ি অপর গাড়িকে সাইড দিতে পারে না। রাস্তা ভাঙা। দীর্ঘদিন থেকে রাস্তার কোনো কাজ হয় না। আমরা গাড়ি চালাতে পারি না। এমনকি হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে কষ্ট হয়।


কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সরকার জানান কুড়িগ্রাম শহরের সড়ক ও জনপদের দুই কি.মি. রাস্তা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। যেটি আমাদের জরুরি মেরামত করা প্রয়োজন। এই রাস্তার জন্য ২০২৪ সালে দরপত্র আহ্বান করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছি। এখনো আসে নি। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।


কুড়িগ্রাম পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, কুড়িগ্রাম শহরের পৌরসভার প্রধান রাস্তাটি জনবহুল রাস্তা। দীর্ঘদিন থেকে রাস্তাটির কোনো সংস্কারের কাজ হয় না। লোকজন ভোগান্তিতে আছে রাস্তা নিয়ে। আমরা ইতোমধ্যে রাস্তা সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছি। প্রক্রিয়া শেষ করেই রাস্তার কাজ শুরু হবে।

Exit mobile version