মোঃ আমিনুর রহমান
কৃষকের পর এবার সার সংকটে বিপাকে পড়েছেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর মৎস্যচাষিরা। পুকুরে প্রয়োজনীয় সময়ে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন। এতে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে উৎপাদন খরচ। ফলে লাভের আশায় মাছ চাষ করে উল্টো লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা।
মৎস্যচাষিদের অভিযোগ, এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে না। পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন ও মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য সার সংগ্রহ করতে গিয়ে এক দোকান থেকে অন্য দোকান এবং ডিলারের কাছে ঘুরতে হচ্ছে। কোথাও সার পাওয়া গেলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।
মৎস্য খামারি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “পুকুরে সময়মতো সার দিতে না পারলে প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন কমে যায়। এতে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। তখন অতিরিক্ত মাছের খাদ্য কিনে দিতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়।”
অপর খামারি মোঃ আবু ছালেহ বলেন, মাছ চাষে পোনা, খাদ্য ও শ্রমিকসহ প্রায় সব উপকরণের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে সার সংকট নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “সারের বিষয়ে কৃষি উপসহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে মৎস্য কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি জানান, সারের দায়িত্ব কৃষি অফিসের। আমরা মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠিয়েছি, কিন্তু সারের বরাদ্দ আমাদের কাছে আসে না। দ্রুত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে আমাকে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।”
খামারিরা বলছেন, মাছ চাষে সার গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ। সময়মতো সার প্রয়োগ করা না গেলে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন কমে যায়। এতে মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত খাদ্য কিনতে হয়। ফলে একদিকে বাড়ছে খরচ, অন্যদিকে কমছে লাভের সম্ভাবনা।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, সার সংকটের দায় কোন দপ্তরের—এ নিয়ে খামারিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। মৎস্যচাষিরা প্রয়োজনীয় সার চাইতে গিয়ে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগ করলেও কার্যকর সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদা মোহতাতিম বলেন, “আমাদের অফিসে সারের কোনো বরাদ্দ আসে না। এ ব্যাপারে উপর থেকে কোনো নির্দেশনাও নেই। আমরা কী করব? উপরে কথা বলে বিষয়টি জানাব।”
অন্যদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় মৎস্যচাষিদের দাবি, কৃষকদের মতো মৎস্যচাষিদের সার চাহিদাকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে ভূরুঙ্গামারীর মৎস্য খাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শত শত খামারি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সার সংকটের দ্রুত সমাধান, পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত এবং কৃষি ও মৎস্য বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্যচাষিরা।






