Site icon হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম-২ আসনের ৭৬ ভোটকেন্দ্র ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ দাবি আতিক মুজাহিদের, নির্বাচন কমিশনের কাছে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন

নিউজ ডেস্ক অনলাইন:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-২ আসনের ৭৬টি ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ।

৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে নির্বাচন কমিশন বরাবর পাঠানো আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, কুড়িগ্রাম-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত একাধিক ভোটকেন্দ্র ঐতিহাসিকভাবে সংঘাতপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে এসব কেন্দ্রে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা এবং ভোটগ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, “চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি, সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

ড. আতিক মুজাহিদ তার আবেদনে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার, বিজিবি এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও শক্ত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার দাবিও জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা একটি দলের নেতা-কর্মীদের সাম্প্রতিক তৎপরতা দেখে আশঙ্কিত। তারা পতিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির কায়দায় এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তবে আমাদের নেতা-কর্মীরাও প্রস্তুত রয়েছে। ভোট চুরির ইতিহাস আর যেন পুনরাবৃত্তি না হয়—এ জন্যই আমরা প্রশাসনের কাছে বাড়তি নজরদারির অনুরোধ জানিয়েছি।”

আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলার মোট ৭৬টি ভোটকেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজভিত্তিক ভোটকেন্দ্র রয়েছে।

এ বিষয়ে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার, সেনা ক্যাম্প কমান্ডার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, বিজিবি এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগাম ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করে নিরাপত্তা জোরদারের এই উদ্যোগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

Exit mobile version