কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, বিক্ষোভ


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : মার্চ ১৯, ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন /
কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক

দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ব্যাপক অনিয়ম ও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকার নির্ধারিত নীতিমালা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের তালিকার ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে, ফলে প্রকৃত দরিদ্রদের অনেকেই এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, চলতি পর্যায়ে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকায় ৪ হাজার ৬২৫টি দরিদ্র পরিবারের জন্য প্রতিজনকে ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুতের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কার্ডের একটি বড় অংশ দলীয়ভাবে বণ্টন করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র স্থানীয় নেতাদের একটি তালিকায় প্রায় ৩ হাজার ভিজিএফ কার্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তালিকাটিতে স্বাক্ষর করেছেন পৌর বিএনপির সদস্য ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এরশাদুল হক খোকন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম শহর শাখার পক্ষ থেকেও ১ হাজার ভিজিএফ কার্ড গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত তালিকায় স্বাক্ষর করেন শহর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আনিসুর রহমান।

স্থানীয়দের দাবি, দলীয় তালিকার কারণে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় বহু পরিবার ভিজিএফ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর প্রতিবাদে রোববার দুপুরে কয়েকশ’ দরিদ্র নারী-পুরুষ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে খাদ্যের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণের দাবি জানান।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে নাজিরা ব্যাপারী পাড়ার দিনমজুর শফিকুল (৫০) বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। দিনমজুরি না করলে সংসার চলে না। সরকার গরিবের জন্য চাল দিয়েছে শুনেছি, কিন্তু আমাদের নাম তালিকায় নেই।”

গৃহকর্মী বিউটি বেগম (৬৫) বলেন, “অনেকবার খোঁজ নিয়েছি, কিন্তু বলা হয়েছে কার্ড শেষ। অথচ শুনছি অনেকেই দলীয় পরিচয়ে কার্ড পেয়েছে।”

রিকশাচালক রমজান আলী (৫৬) বলেন, “যারা প্রকৃত গরিব তারা যদি না পায়, তাহলে সরকারের এই সহায়তার উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যায়।”

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র, হতদরিদ্র, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, প্রতিবন্ধী ও দিনমজুর পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে তালিকা প্রণয়ন করার কথা। কর্মসূচিটি পরিচালনা করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন ও স্বচ্ছভাবে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রশাসক বিএম কুদরত এ খুদা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, “কিভাবে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে সে বিষয়ে আমি অবগত নই। দরিদ্রদের তালিকা কিভাবে করা হয়েছে সেটিও জানি না। তবে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করা হবে। দরিদ্র মানুষের অধিকার কেউ নষ্ট করলে তা বরদাস্ত করা হবে না।”