কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট—রেশনিং বন্ধের ঘোষণার পরও ভোগান্তি, কালোবাজারে চড়া দাম


HK প্রকাশের সময় : মার্চ ২০, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ন /
কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট—রেশনিং বন্ধের ঘোষণার পরও ভোগান্তি, কালোবাজারে চড়া দাম

বিশেষ প্রতিবেদক | হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম জেলায় অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের সরবরাহ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ। কিছু পাম্পে সীমিত পরিমাণে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন পাম্পে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ অপেক্ষার পরও অনেক ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।

জেলা শহরের মোটরসাইকেল চালক সফিকুল ইসলাম সাগর বলেন, “চারবার গিয়ে ৪০০ টাকার অকটেন নিয়েছি। আপাতত ঈদের সময়টা পার হবে।”

ইজিবাইক চালক রফিক মিয়া জানান, “কুড়িগ্রামের কোনো পাম্পেই অকটেন নেই, পৌরবাজার পাম্প ছাড়া। সেখানে ১০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। নিয়ম-কানুন সব এখন তেলপাম্প মালিকদের হাতেই। বাইক চালানোই বন্ধ করতে হবে মনে হয়।”
আহসান হাবিব তুসার নামে আরেক বাইক চালক বলেন, “২০০ টাকার দিচ্ছে, সেটাই তো ভাগ্য ভালো। ফুলবাড়ীতে ৬৫ টাকার বেশি দিচ্ছে না—হাফ লিটার মাত্র।”

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়া হলেও জেলার অধিকাংশ পাম্পে এখনো সেই পদ্ধতিতেই তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

অন্যদিকে, কালোবাজারে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পাম্প মালিকদের একটি অংশ ডিপো থেকে আনা তেল সরাসরি গ্রাহকদের না দিয়ে লাইসেন্সবিহীন খুচরা দোকানে সরবরাহ করছেন। রাতের বেলায় এসব দোকানে পেট্রোল ও অকটেন লিটারপ্রতি প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পাম্প মালিক জানান, “ডিজেলের কিছু সরবরাহ থাকলেও পেট্রোল প্রায় বন্ধ। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। ডিজেলচালিত সেচ পাম্প চালাতে না পারায় কৃষকরা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। এতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “জ্বালানি তেল নিয়ে অনিয়ম রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়মের তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট স্থান ও প্রতিষ্ঠানের নামসহ বিস্তারিত তথ্য মেসেজের মাধ্যমে জানালে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাধারণ মানুষ দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং কালোবাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।