কুড়িগ্রামে জোবায়ের আল মুকুলকে বিদ্যালয় সভাপতির পদ থেকে অপসারণের দাবি ছাত্রসমাজের


HK প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৫, ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন /
কুড়িগ্রামে জোবায়ের আল মুকুলকে বিদ্যালয় সভাপতির পদ থেকে অপসারণের দাবি ছাত্রসমাজের

উপজেলা প্রতিনিধি, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামে ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জোবায়ের আল মুকুলকে উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে ছাত্রসমাজ। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পরও ৫ আগস্টের পর তাঁকে ওই পদে বসানো হয়েছে, যা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ ও লজ্জাজনক বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রনেতাদের অভিযোগ, জোবায়ের আল মুকুল দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। এর প্রমাণ হিসেবে তারা ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্য এম. এ. মতিনের বাসায় নৌকা প্রতীক উপহার দেওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যা সে সময় বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়।

আরও অভিযোগ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে কুড়িগ্রামের তালতলা এলাকায় নিজের মেসে তালা দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হতো। আন্দোলনে যোগ দিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যা ছাত্রসমাজের মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচিত।

এতসব অভিযোগ থাকার পরও কীভাবে তাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল। তাদের বক্তব্য, “যার বিরুদ্ধে আন্দোলন দমন ও ফ্যাসিবাদের দোসর হওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তিনি কীভাবে একটি বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকতে পারেন?”

ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে—কে বা কারা তাঁকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছে এবং কেন এখনো তাঁকে অপসারণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতাকে ‘দায় এড়ানোর কৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কুড়িগ্রাম জেলা শাখা। তারা দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জোবায়ের আল মুকুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ছাত্রসমাজ জানিয়েছে, দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবে। তাদের ভাষায়—
“শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দালালমুক্ত করতে হবে। ছাত্রসমাজে ফ্যাসিবাদের কোনো ঠাঁই নেই।”