
মোঃ মাইদুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের মধুপুরে পুলিশ পরিচয়ে তদবির ও প্রতারণার চেষ্টা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতেই গ্রেফতার হয়েছেন কুড়িগ্রামের এক যুবক। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) বিকেলে মধুপুর থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতারকৃত মোঃ মিজানুর রহমান (২৮/৩০), পিতা গোলাম মোস্তফা, কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাগভান্ডার গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিটে মধুপুর থানার সামনে থানা মোড় এলাকায় বটগাছের নিচে মিজানুর রহমান নিজেকে বাংলাদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পরিচয় দেন। তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকায় কর্মরত বলে দাবি করেন এবং স্থানীয় একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার নামে তদবির শুরু করেন।
এ সময় তিনি টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার পাঁচ এলাসিন এলাকার সাগর কর্মকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাগর কর্মকারের ফুফা রূপলাল কর্মকারের মধুপুর থানাধীন জলছত্র এলাকায় ৪ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মিজানুর রহমান সাগর কর্মকারের কাছ থেকে প্রথমে ১৭ হাজার টাকা নেন।
পরে কৌশলে সেখান থেকে সরে গিয়ে কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে আরও ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে সাগর কর্মকারের সন্দেহ হলে তিনি স্থানীয়ভাবে তাকে আটক করে মধুপুর থানা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সামছুল আলম সরকারের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম এবং মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.কে.এম ফজলুল হকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে।
এ সময় তার কাছ থেকে একটি YAMAHA FZ V-4 মোটরসাইকেল (যার হেডলাইটে ‘POLICE’ লেখা ছিল), একটি নেভি ব্লু রঙের পুলিশের জ্যাকেট (ট্র্যাকসুট) এবং একটি লাল-নীল রঙের সোল্ডার লাইট জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিজানুর রহমান স্বীকার করেছেন যে, তিনি প্রকৃতপক্ষে পুলিশের সদস্য নন এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তদবির করতে এসেছিলেন।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.কে.এম ফজলুল হক জানান, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মধুপুর সার্কেল এএসপি মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানাধীন তার শশুর বাড়ীর তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। সেখানেও অনেকের কাছে প্রতারনা করেছে। এই ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ভুয়া পরিচয় দেয়া এবং প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :