কুড়িগ্রামের চার আসনে নির্বাচনী সমীকরণ: বিএনপি–জামায়াত মুখোমুখি, জাতীয় পার্টি এলে বদলাতে পারে হিসাব


hamarkur6 প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫, ৮:২৭ অপরাহ্ন /
কুড়িগ্রামের চার আসনে নির্বাচনী সমীকরণ: বিএনপি–জামায়াত মুখোমুখি, জাতীয় পার্টি এলে বদলাতে পারে হিসাব

নিউজ ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুড়িগ্রামের চারটি আসনেই জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। তবে জাতীয় পার্টি (জাপা) সক্রিয়ভাবে অংশ নিলে ভোটের হিসাব বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

🗳️ আসনভিত্তিক সংক্ষিপ্ত চিত্র

কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী–ভূরুঙ্গামারী)

  • বিএনপি: সাইফুর রহমান রানা
  • জামায়াত: আনোয়ারুল ইসলাম
  • ইসলামী আন্দোলন: হারিসুল ইসলাম রনি
  • জাতীয় পার্টি: এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান (আশাবাদী)
  • ভোটার: প্রায় ৫.২৯ লাখ
  • ইস্যু: সীমান্ত নিরাপত্তা, নদীভাঙন, কর্মসংস্থান

কুড়িগ্রাম-২ (সদর–ফুলবাড়ি–রাজারহাট)

  • ‘জাতীয় পার্টির দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত
  • বিএনপি: সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ
  • জামায়াত: ইয়াছিন আলী সরকার
  • ইসলামী আন্দোলন: নুর বখত মিয়া
  • এনসিপি ও অন্যান্য দলও সক্রিয়
  • ভোটার: প্রায় ৫.৬৭ লাখ
  • ইস্যু: উন্নয়ন, নদীভাঙন, কর্মসংস্থান

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর)

  • বিএনপি: তাসভীর উল ইসলাম (প্রার্থী বদলের চাপ রয়েছে)
  • জামায়াত: ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহী
  • ইসলামী আন্দোলন: অধ্যাপক ডা. আক্কাস আলী সরকার
  • জাতীয় পার্টি: আব্দুস সোবহান
  • ভোটার: প্রায় ৩.৪৭ লাখ
  • ইস্যু: শিল্পায়ন, নদীভাঙন, বেকারত্ব

কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী–রৌমারী–রাজিবপুর)

  • বিএনপি ও জামায়াতের দুই ভাই প্রার্থী
  • বিএনপি: আজিজুর রহমান
  • জামায়াত: মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক
  • ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দল সক্রিয়
  • ভোটার: প্রায় ৩.৩৮ লাখ
  • ইস্যু: চর উন্নয়ন, নদীভাঙন, যোগাযোগ ব্যবস্থা

🗳️ কুড়িগ্রাম-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াই, বিএনপি–জামায়াতের সঙ্গে জাপাও আশাবাদী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী–ভূরুঙ্গামারী) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। তবে জাতীয় পার্টি অংশ নিলে ভোটের সমীকরণ বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুর রহমান রানা। জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী সহকারী অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হারিসুল ইসলাম রনি। জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানও আশাবাদী অবস্থানে রয়েছেন।

৫ লাখ ২৯ হাজারের বেশি ভোটারের এই আসনে সীমান্ত নিরাপত্তা, নদীভাঙন রোধ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধই প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠেছে।

🗳️ কুড়িগ্রাম-২ আসনে ‘জাতীয় পার্টির দুর্গে’ জমজমাট ভোটের লড়াই

সদর, ফুলবাড়ি ও রাজারহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-২ আসন বরাবরই জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন্ন নির্বাচনে এ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।

বিএনপির প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জামায়াতের ইয়াছিন আলী সরকার, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা নুর বখত মিয়া, এনসিপির আতিক মুজাহিদসহ একাধিক দলের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি পনির উদ্দিন আহমেদও নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন।

৫ লাখ ৬৭ হাজার ভোটারের এই আসনে নদীভাঙন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন ও উন্নয়ন বৈষম্য নিরসন প্রধান ইস্যু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

🗳️ কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বিএনপিতে একক প্রার্থী , মাঠ ছাড়ছে না জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন

উলিপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৩ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। বিএনপির প্রার্থী তাসভীর উল ইসলাম গণসংযোগ চালিয়ে গেলেও শক্ত অবস্থানে রয়েছে জামায়াত।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. আক্কাস আলী সরকার এবং জাতীয় পার্টির আব্দুস সোবহান সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

৩ লাখ ৪৭ হাজার ভোটারের এই আসনে শিল্প কারখানা স্থাপন, নদীভাঙন রোধ, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং উলিপুরের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠেছে।

🗳️ কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দুই ভাইয়ের লড়াই, ভোটের মাঠে বাড়তি কৌতূহল

চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনে এবার নির্বাচনে আলাদা মাত্রা যোগ হয়েছে। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আপন দুই ভাই হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান ও জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যাপক হাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন।

৩ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি ভোটারের এই আসনে নদীভাঙন রোধ, চরাঞ্চলের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নই ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা।