হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরীতে ১৪০ স্বাস্থ্যকর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ: মা, নবজাতক ও কিশোর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জোর

মোঃ সাদিকুল ইসলাম, নাগেশ্বরী

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং কিশোর-কিশোরীদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের ১৪০ জন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও ইউনিসেফের আর্থিক সহযোগিতায় এবং এসএসবিসি (SSBC) প্রকল্পের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

গত ৩ থেকে ৫ নভেম্বর নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। চারটি ব্যাচে বিভক্ত হয়ে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মীরা এতে অংশ নেন।

মাতৃ, নবজাতক, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা (MNCAH) সংক্রান্ত বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় অংশগ্রহণকারীদের। প্রশিক্ষণে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (CHCP), স্বাস্থ্য সহকারী (HA), সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক (AHI), স্বাস্থ্য পরিদর্শক (HI), এমটি-ইপিআই (MT-EPI), পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (FPI) ও পরিবার কল্যাণ সহকারীরা (FWA) অংশ নেন।

প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. মোজাম্মেল হক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহা, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. রমজান আলী, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এসএসবিসি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আজিজুল হক, এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ম্যানেজার নিতা ফ্লোরা দাস এবং প্রকল্প কর্মকর্তা জেমস উজ্জ্বল শিকদার।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, মানসিক সুস্থতা ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সঠিক ধারণা দেওয়া জরুরি।

তারা আরও বলেন, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরাই সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার মূল চালিকাশক্তি। তাই নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মীরা জানান, অর্জিত জ্ঞান ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা তারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করবেন। বিশেষ করে মাতৃ ও নবজাতকের যত্ন এবং কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে এ প্রশিক্ষণ তাদের আরও দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

Exit mobile version