হামার কুড়িগ্রাম ডেস্ক
সম্প্রতি চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসার অভাবে দুইজন রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সেবাব্যবস্থাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। রোগীদের কিছু দুঃখজনক অভিজ্ঞতা ভাইরাল হলে চিকিৎসকদের পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন মেডিকেল অফিসার ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আব্দুল হান্নান।
তিনি জানান, কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলার বিপুল সংখ্যক রেফার্ড রোগী প্রতিদিনই এই হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। জরুরি বিভাগেও আসে অনেক আশঙ্কাজনক রোগী। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ওই বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন চিকিৎসক। এই সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও এখনও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।
ডা. হান্নান বলেন, “এই সীমিত জনবল নিয়ে আমরা দিনরাত সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সব সময় প্রত্যেক রোগীর প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয় না। তখন কিছু রোগী অসন্তুষ্ট হন, যা অনেক সময় চিকিৎসকদের ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করে। এতে তরুণ চিকিৎসকদের মধ্যে হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “চিকিৎসকগণ কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করেন না। আমরা সাধ্যমতো প্রতিটি রোগীকে মানবিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এ সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার চিকিৎসক নিয়োগ ও শিফট রোস্টার বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
পরিশেষে তিনি গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের প্রতি আস্থা রাখুন। তথ্য যাচাই করে মত প্রকাশ করুন এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতকে সম্মান ও সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে নিতে পাশে থাকুন।”
চিকিৎসক সংকটজনিত এই বাস্তবতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

