Site icon হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে শিশু বলাৎকার মামলায় বাদী পরিবারে আতঙ্ক; আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি

রতন রায়, রাজারহাট উপজেলা

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের বাছড়া বালাটারী তালিমুল কুরআন নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এক শিশুশিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের মামলায় বাদীপক্ষ বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। মামলার বিবাদীপক্ষের হুমকির মুখে বাদী পরিবার পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ঘটনার প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

জানা গেছে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশু মোজাহেদুল ইসলামের বাবা সাহেব আলী বাদী হয়ে গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে রাজারহাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আমলি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার জিআর নং-৩১/২৬, তারিখ-১১/০৩/২০২৬।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই বিবাদীপক্ষ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ব্যবহার করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।

বাদী সাহেব আলী বলেন,

“বিবাদীপক্ষ অনেক প্রভাবশালী। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন লোক মারফত আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। আমি বাড়িতে থাকতে পারছি না, তাদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আসামি অপরাধ করেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ পুলিশ এখনো তাকে গ্রেপ্তার করছে না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।”

আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইউনুস আলী সরকার মোবাইল ফোনে জানান, আসামি বর্তমানে পলাতক থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বাদীপক্ষকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রভাবশালীদের মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন,

“মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চার্জশিট প্রক্রিয়াধীন আছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।”

উল্লেখ্য, বাছড়া বালাটারী তালিমুল কুরআন নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় গভীর রাতে শিক্ষক হাফেজ মো. রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১০ বছরের হাফেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী মোজাহেদুল ইসলামকে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানালে অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মো. আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ (তারা) ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কমিটির সদস্যরা তড়িঘড়ি করে অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেন।

ভুক্তভোগী শিশু মোজাহেদুল ইসলাম রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের বালাকান্দি সরকারপাড়া গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে।

Exit mobile version