হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে যানজট নিরসনে শহীদ মিনারের অব্যবহৃত অংশ অপসারণ, রাস্তা প্রশস্তকরণ শুরু

শফিকুল ইসলাম বেবু। হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা শাপলা চত্বরের দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে কুড়িগ্রাম পৌরসভা ও সড়ক এবং জনপথ (সওজ) বিভাগ। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের জিরো পয়েন্টে অবস্থিত শহীদ মিনারের অব্যবহৃত অংশ ভেঙে ফেলে সড়ক প্রশস্ত করার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে।

​শাপলা চত্বর এলাকাটি মূলত কুড়িগ্রাম-রংপুর এবং কুড়িগ্রাম-চিলমারী প্রধান সড়কের মিলনস্থল। প্রতিদিন হাজারও যানবাহন এই সংযোগস্থল দিয়ে চলাচল করায় এখানে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো। স্থানীয় চালক ও পথচারীরা জানান, রাস্তা সরু হওয়ার কারণে বিশেষ করে পিক-আওয়ারে অটোরিকশা, বাস ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হতো, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিত।

​সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী যানবাহন চালকরা। এক অটোরিকশাচালক রমজান আলী বলেন, “শাপলা চত্বরে পৌঁছালেই ২০-৩০ মিনিট আটকে থাকতে হতো। এই মোড়টা বড় করা হলে আমাগো যেমন সময় বাঁচবে, যাত্রীগোও ভোগান্তি কমবে।” একই ধরনের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করে দূরপাল্লার এক বাসচালক বক্তার মিয়া জানান, মোড়টি প্রশস্ত হলে চিলমারী ও রংপুরের দিকে যাতায়াতকারী বড় যানবাহনগুলো অনায়াসে বাঁক নিতে পারবে, ফলে দুর্ঘটনাসহ যানজটের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে।

​স্থানটি পরিদর্শনের সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, “কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে যানজটের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ছিল। জিরো পয়েন্টের শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভ অক্ষত রেখে শুধুমাত্র অব্যবহৃত ও অনাবশ্যক অংশ অপসারণ করা হচ্ছে, যাতে রাস্তাটি প্রসারিত করা যায়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শহরের কেন্দ্রস্থলে যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষ যানজটের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।”

​কাজ শুরুর সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ এবং সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিক, সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগান, জেলা বিএনপির সদস্য শাহিন শেখ রঞ্জু, আজিজুল হক সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পৌর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে1

দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়ক প্রসস্থকরণের বাকি কাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

Exit mobile version